চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে মাদক কারবার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়নের মানুরী গ্রামে এ হামলায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, নারী ও কিশোরীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব মানুরী ঠাকুর বাড়ির ফারুক, হাছানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তারা কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে এলাকাবাসীর চাপের মুখে গত শুক্রবার ঠাকুর বাড়ির লোকজন সম্মিলিতভাবে ফারুক ও হাছানকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অথবা এলাকা ছাড়ার কথা বলেন। এর জেরে শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির কাউসার বৈদ্যের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের অনেকের হাতে রামদা, বগি, রড, লাঠি ও চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় ঠাকুর বাড়ির আজাদ, তার স্ত্রী সাথী, তাদের ১১ বছর বয়সী মেয়ে রিয়া, জাহাঙ্গীরের ছেলে আরমান, রহিম, মানিক, আরিফ ও সেলিমসহ কয়েকজন আহত হন। ঠাকুর বাড়ির লোকজনের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ইউপি সদস্য আল-আমিন মেম্বারও মারধরের শিকার হন।
আহত সাথী বলেন, শুক্রবার বাড়ির সবাই মিলে ফারুককে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এর পরদিন রাতে কাউসারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন এসে তার স্বামী আজাদকে মারধর করেন। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তিনি ও তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঠাকুর বাড়ির আজাদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সবাই মিলে ফারুক ও তার পরিবারকে মাদক ব্যবসা ছাড়ার জন্য চাপ দিয়েছিল। এর জেরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা হামলা চালিয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে ফারুকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়ে হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে সরে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
অভিযুক্ত কাউসার বৈদ্য হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকানের কাছে ছিলেন। অনেক মানুষ ঠাকুর বাড়ির দিকে যেতে দেখে তিনিও সেখানে যান। তবে তার কোনো লোক সেখানে মারামারি করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, মূল ঘটনা অটোচালক মানিক ও ফারুকের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিই না। আমার যারা ছোট ভাই, তাদের আদর-স্নেহ করি।’ রাজনৈতিক কারণে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় এসে অভিযোগ দেয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
ফম/এমএমএ/


