শাহরাস্তিতে অধ্যক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

চাঁদপুর : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। পরে শিক্ষক মিলনায়তনে সভা করে অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাইলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরেন শিক্ষকরা।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সহকারী অধ্যাপক কামাল উদ্দিন তপাদারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। একই দিন দুপুরে প্রভাষক তাজুল ইসলামের সঙ্গেও তিনি অনুরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা রোববার ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। কর্মসূচি চলাকালে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের বাইরে অবস্থান করছে। এ সময় শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের বৈঠক চলছিল।

বৈঠক শেষে কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তারা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পুনরায় পাঠদানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

প্রভাষক তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিস্থিতির শিকার। লাঞ্ছিত হয়েও অনেক সময় মুখ খোলার সুযোগ থাকে না। সেদিন অধ্যক্ষ আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার অঙ্গীকার করে তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

এদিকে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। শিক্ষকরা জানান, গত ১৩ আগস্ট অধ্যক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিকার চেয়ে চারজন শিক্ষক শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টিকে “ঘরোয়া বিষয়” উল্লেখ করে বলেন, এগুলো বাইরে যাওয়ার কথা নয়। সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দেন তিনি।

তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বা ঘরোয়া বিষয় নয়; শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের আচরণ এবং এর প্রভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম