চাঁদপুর : চাঁদপুরে গত এক সপ্তাহ তীব্র লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির পর বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং আগের তুলনায় কমেছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বিদ্যুতের সংকট কিছুটা কাটলেও গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহে ভোগান্তি কাটেনি। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিনের বেলায় গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরেজমিন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শাহরাস্তি উপজেলা সদরের বাসিন্দা রোমানা বিলকিস বলেন, দিনের বেলায় লাইনের গ্যাস থাকে না, রাতে পাওয়া যায়। গত এক সপ্তাহে বিদ্যুতের অবস্থাও ছিল খারাপ। দিনে-রাতে মিলিয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। তবে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে।
হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা গাজী মো. নাছির বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতি হয়েছে। তবে গ্যাসের সমস্যা কাটেনি। বুধবার সকাল ১১টা থেকে গ্যাস ছিল না। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা ছিল।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের বাসিন্দা গাজী মমিন বলেন, তাঁদের এলাকায় লাইনের গ্যাস নেই। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর সড়কের বাসিন্দা আল আমিন ভূঁইয়া বলেন, গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। রাতে যেমন গ্যাস থাকে না, অনেক সময় দিনেও সরবরাহ বন্ধ থাকে। তবে গত এক সপ্তাহের তুলনায় বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের লোডশেডিং কমেছে।
চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার বাসিন্দা আমিন ব্যাপারী বলেন, তাঁদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি ঠিক আছে। রাত ১১টার পর গ্যাস বন্ধ হয়ে সকাল ৬টার মধ্যে আবার আসে। তবে বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।
চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, ততটুকুই সরবরাহ করা হয়। গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রতিদিন এক রকম থাকে না। ফলে সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাঁদপুর-১-এর জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ আগরওয়ালা বলেন, তাঁদের সাব-অফিস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের হামলার আশঙ্কা নেই। এ কারণে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাঁদপুর-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গত এক সপ্তাহ সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও বিদ্যুৎ সংকট ছিল। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাঁদের কার্যালয় বা সাবস্টেশনগুলোতেও হামলার আশঙ্কা নেই। তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। চাঁদপুর প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মীর ফজলে রাব্বি বলেন, গ্যাসের সংকটটি জাতীয় সমস্যা। এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবে চাঁদপুরে স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে চাঁদপুরেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জ্বালানি সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না চাঁদপুরবাসীর।
ফম/এমএমএ/



