কচুয়া (চাঁদপুর) : বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম নেই, নেই জাত-পাতের বিভেদ। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে-যার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকার। তার বাড়ি চাঁদপুরের উপজেলার দোয়াটি গ্রামে।
একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলের মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না প্রদীপ সরকার। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। চারপাশে যখন সবাই প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর, তখন প্রদীপ সরকারের নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা আর অশ্রুসিক্ত চোখ যেন বলে দিচ্ছিল-বন্ধু হারানোর বেদনা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আটকে থাকে না।
জীবনের এক সময় একই সঙ্গে পথ চলেছেন দুই বন্ধু। হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কেটেছে তাদের জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই প্রিয় বন্ধুকেই এভাবে শেষ বিদায় জানাতে হবে!
কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহময়ী স্বভাবের মানুষ। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার তার জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি। ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়া এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই আবেগের জন্ম দেয়।
জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকার যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পুরোনো স্মৃতিতে। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে এসে নীরবে তাকিয়ে ছিলেন, আর চোখের জলে যেন বলছিলেন-‘বন্ধু, তুই চলে গেলি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে।
প্রদীপ সরকারের এই উপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল-মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক ধর্মের পরিচয়ের চেয়েও বড়। একজন মুসলিম বন্ধুর শেষ বিদায়ে একজন হিন্দু বন্ধুর অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।
ফম/এমএমএ/



