আলহাজ্ব এম এ বারী খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুর: ​চাঁদপুরের বিশিষ্ট নৌপরিবহন ব্যবসায়ী, প্রবীণ সমাজসেবক ও শিল্পোদ্যোক্তা, চাঁদপুর-ঢাকা রুটের জনপ্রিয় লঞ্চ এমভি রফ রফ ও এমভি আল বোরাক-এর সত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব এম এ বারী খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুমা মরহুমের প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর শহরের ঐতিহাসিক ‘বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদে’ এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই মাহফিলে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

​দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকার শান্তিনগর জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবানী। দোয়া-পূর্বক এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মরহুমের মেজো ছেলে ও বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি জাবের আহমেদ খান (মুন্না)।

​অনুষ্ঠানে দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:​বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা বুরহানুদ্দীন সিদ্দিকী ও পেশ ইমাম মুফতী জাফর আহমদ,মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আলহাজ্ব আবু তাহের,​মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র আলহাজ্ব বেনজির খান,মুরুব্বী সিরাজুল ইসলাম চোকদার,​চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজালাল মিশন,​ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ,​জেলা বিএনপি নেতা বশির আহমেদ খান রিপন, দীন মোহাম্মদ জিল্লুর, সেলিম ছৈয়াল,শামসুল আলম সূর্য, ​চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর হোসেন গাজী,​ব্যবসায়ী শরিফ খান, শাহাদাত হোসেন সিকদার প্রমুখ।

​এছাড়াও মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়।

​বর্ণাঢ্য জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : ​চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলার প্রবীণ নিবাসী আলহাজ্ব এম এ বারী খান গত ২০২৫ সালের ১ আগস্ট শুক্রবার সকালে ৮২ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

​তিনি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না, বরং চাঁদপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তিনি চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক, চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি এবং চাঁদপুর রোটারী ক্লাবসহ বহু সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। একজন শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমবায় সমিতিরও উপদেষ্টা ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুরের ব্যবসায়িক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা অপূরণীয়।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম