শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, শিল্পের সুরক্ষা ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ

।। জুবাইয়া বিন্তে কবির।।  বাংলাদেশের অর্থনীতির মহাসড়ক যে ইঞ্জিনের শক্তিতে ছুটে চলেছে, তার নাম তৈরি পোশাকশিল্প। এই শিল্প কেবল একটি শিল্প নয়, এটি আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদা, আমাদের কোটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সমুন্নত রাখার প্রধান হাতিয়ার। আজ সেই প্রাণশক্তি এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় উত্তাপ, বাড়িভাড়ার বোঝা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়ের নিষ্পেষণে শ্রমিকের জীবন যখন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে বৈশ্বিক মন্দা, ডলার সংকট, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয়ের উর্ধ্বগতি এবং রপ্তানি আদেশের অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারাও নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না।
এমন বাস্তবতায় দুটি সত্যকে একসঙ্গে ধারণ করতে হবে। প্রথমত, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি কোনো করুণা নয়, এটি তার সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের পবিত্র নাম ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ, কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং জনজীবন বিপর্যস্ত করার কোনো বৈধতা একটি সভ্য রাষ্ট্রে থাকতে পারে না। আজ সময় এসেছে প্রশ্ন করার, শ্রমিকের যৌক্তিক দাবির আড়ালে কোনো পরাজিত ও স্বার্থান্বেষী মহল কি বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডে আঘাত হানার চেষ্টা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক স্লোগানে নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে দিতে হবে। আর সেই কঠিন নেতৃত্বের ভারই আজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বহন করছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।
২ নভেম্বরের সহিংসতা: নাশকতার নীলনকশা : গত ১ ও ২ নভেম্বর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে যা ঘটেছে, তা শ্রমিক আন্দোলন নয়, তা সুপরিকল্পিত নাশকতা। শান্তিপূর্ণ মজুরি বৃদ্ধির দাবির সঙ্গে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, শত শত যানবাহন ভাঙচুর করা, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। ২ নভেম্বর গাজীপুরের পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, নাওজোর এলাকায় যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সংবাদকর্মীরা আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রকে বাধ্য হয়ে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করতে হয়েছে, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে নামাতে হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, ঘটনা কতটা গুরুতর ছিল।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই শিউরে উঠতে হয়। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী ১ নভেম্বর একদিনেই ৫২৯টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হয়, যার ফলে ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২ নভেম্বর সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯০টি কারখানায় এবং ১৭ লাখের বেশি শ্রমিকের জীবিকা ব্যাহত হয়। অঞ্চল ও সময়ভেদে সংখ্যার ভিন্নতা থাকলেও বার্তাটি একটাই – বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভে আঘাত হানা হয়েছে। একটি কারখানা বন্ধ মানে শুধু মালিকের ক্ষতি নয়, মানে হাজারো পরিবারের চুলা না জ্বলা, সন্তানের স্কুল ফি আটকে যাওয়া, অসুস্থ বাবার ওষুধ কিনতে না পারা।
৩০ হাজার টাকার দাবি: বেঁচে থাকার ন্যূনতম আকুতি :  বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০২৩ সালে নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছরে বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন ভাড়া, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় – সবকিছুই আকাশছোঁয়া। এই বাস্তবতায় ১২ হাজার ৫০০ টাকায় ঢাকা বা গাজীপুরে একটি পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই শ্রমিকরা যখন ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তুলেছেন, তখন তা কোনো বিলাসিতা নয়, তা বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের আকুতি। অবশ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমাদের এটাও বুঝতে হবে, দাবি করলেই রাতারাতি তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারতের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হয়। বায়াররা এক টাকা বেশি দাম হলেই অন্য দেশে চলে যায়। কারখানা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে শ্রমিক কাজ করবে কোথায়? তাই প্রয়োজন একটি মানবিক, যৌক্তিক ও টেকসই রোডম্যাপ – যেখানে শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, উৎপাদনশীলতা এবং শিল্পের সক্ষমতা – সবকিছুই বিবেচনায় থাকবে। আর এই কঠিন সমীকরণের সমাধান একমাত্র দেশনায়ক তারেক রহমানের মতো একজন প্রজ্ঞাবান, শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব নেতার পক্ষেই সম্ভব।
দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ: নতুন মজুরি বোর্ড : সংকটের এই মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে দূরদর্শিতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। শ্রমিকের দাবিকে রাজপথে না ঠেলে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত এই বোর্ড একটি নিখুঁত ভারসাম্যের প্রতীক। মালিকপক্ষে রয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
শ্রমিকপক্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সংগ্রামী সভাপতি আনোয়ার হোসাইন – যিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে লড়াই করছেন। আর নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এটি কোনো একপক্ষীয় বোর্ড নয়, এটি জাতীয় ঐক্যের বোর্ড। শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দ্রুত ও ন্যায়সংগত মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই, যদিও বৈশ্বিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের কথাও মাথায় রাখতে হবে। অন্যদিকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন এবং শ্রম আইনের ১৩(১) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এই দুই বক্তব্যই প্রমাণ করে, সরকারের এই উদ্যোগ মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এটাই তারেক রহমানের রাজনীতির সৌন্দর্য – তিনি সংঘাত নয়, সমন্বয়ে বিশ্বাস করেন।
অর্থনীতির প্রাণশক্তি: কেন এই শিল্পকে বাঁচাতেই হবে : বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১.৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে। ২০২৪ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫০ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৫৫.৫৭ শতাংশ নারী, অর্থাৎ প্রায় ২৮ লাখ মা-বোন। এই শিল্পের সঙ্গে পরিবহন, ব্যাংক, বীমা, বন্দর, প্যাকেজিং, সুতা, কাপড়, ডাইং, প্রিন্টিং, ক্ষুদ্র ব্যবসা – সবকিছু জড়িত। এই শিল্পের চাকা ঘুরলেই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। তাই এই শিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
জিয়া পরিবার: বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ : বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়া পরিবারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তখন বাংলাদেশ ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। তিনি সেই বাংলাদেশকে উৎপাদনের বাংলাদেশে পরিণত করেন। বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন – সবকিছুর নেপথ্যে ছিলেন তিনি।
১৯৭৭ সালে প্রয়াত নূরুল কাদের খানের দেশ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দেউউর সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিপণন সহযোগিতা – এই ঐতিহাসিক যাত্রা সম্ভব হয়েছিল জিয়াউর রহমানের দেওয়া নীতিগত পরিবেশের কারণেই। তাঁরই যোগ্য সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে আরও বেগবান করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সময় রপ্তানি বাজার বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়, নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিপ্লব ঘটে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানে শুধু জিডিপি নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনমান বদলে দেওয়া। তাঁর আপসহীন সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। আর আজ সেই মহান ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক দেশনায়ক তারেক রহমান। তিনি কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি কোটি তরুণের আশার বাতিঘর। দীর্ঘ নির্বাসন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, অপপ্রচারের পাহাড় ডিঙিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। তাঁর রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, তাঁর রাজনীতি উৎপাদনের, সমৃদ্ধির ও মানবিকতার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন যথার্থই বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। এটাই একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের ভাষা। তারেক রহমানের নেতৃত্বের সার্থকতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন শ্রমিক ও মালিক উভয়ই তাঁর সরকারের নীতিতে আস্থা খুঁজে পাবেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নাশকতার তদন্ত: দুই ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার : পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় সামাজিক বিপ্লব হলো নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি। যে নারী একসময় ঘরের চার দেয়ালে বন্দি ছিল, আজ সে কারখানার মেশিন চালাচ্ছে, সংসার চালাচ্ছে, সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছে। একজন নারী শ্রমিকের আয় শুধু তার নিজের জীবন বদলায় না, একটি পরিবার, একটি সমাজ বদলে দেয়। জিয়াউর রহমানের রপ্তানিমুখী দর্শন, খালেদা জিয়ার সম্প্রসারণ নীতি এবং তারেক রহমানের শ্রমিকবান্ধব অঙ্গীকার – এই ত্রিধারার সমন্বয়ে নারীর ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় হবে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নাশকতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারের খবর এসেছে। মিরপুরে আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও শিল্প অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিককে হয়রানি করা যাবে না। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনই হবে তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান যথার্থই বলেছেন, কোনোভাবেই এই শিল্পকে অস্থিতিশীল হতে দেওয়া যায় না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি শিল্পের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষাও জাতীয় স্বার্থ। শ্রমিকদের উচিত মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা রাখা এবং মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকের বাস্তবতা উপলব্ধি করা।
পরিশেষে বলতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আমার কাছে শুধু রাজনীতি নয়, এটি আবেগের বিষয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার প্রত্যাশা আরও বেশি। আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে শ্রমিকের ঘামকে মর্যাদা দেওয়া হবে, উদ্যোক্তার বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান আইনের শাসন নিশ্চিত হবে।
বিএনপির ঐতিহাসিক দর্শন – বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ব্যক্তিখাতের বিকাশ ও জনগণের অংশগ্রহণ – তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আজ বাংলাদেশের সামনে প্রয়োজন সংঘাত নয়, সমাধান; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; ধ্বংস নয়, উৎপাদন। তাই আসুন, শ্রমিক ভাইয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরুন, মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা রাখুন। মালিক ভাইয়েরা শ্রমিককে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ভাবুন। আর আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি শ্রমিকবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মালিকের নিরাপদ বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি – এই তিনের সমন্বয়েই রচিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ফোকাস মোহনা.কম