লেখক যদি কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার সাহিত্যও নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়

---অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান

চাঁদপুর: “সাহিত্য রচনায় সভ্যতার পথ বুনি” এ প্রতিপাদ্যে চাঁদপুর লেখক পরিষদ দুই দশকে পদার্পন করেছে। ২০০৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এর আনুষ্ঠানিক পথ চলা শুরু হয়।
সংগঠনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্যপাঠ,আলোচনা সভা,স্হানীয় পত্রিকাগুলোতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও দেয়ালিকা প্রকাশ ও কেককাটার আয়োজন করা হয়।
সাহিত্যপাঠ ও আলোচনা সভা ৩০ জানুয়ারি,মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় শহরস্হ সাহিত্য একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়।  চাঁদপুর লেখক পরিষদের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কবি ও প্রাবন্ধিক জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী খোকন চন্দ্র মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাহিত্যে একাডেমির এডহক কমিটির সদস্য সচিব কবি ও প্রাবন্ধিক শাহাদাত হোসেন শান্ত।
অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও  নজরুল গবেষক বীরমুক্তিযোদ্ধা ফতেউল বারী রাজা, আবৃত্তিশিল্পী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র দাস, সংগঠনের সম্মানিত সদস্য অ্যাড. শীতল ঘোষ  ও আবদুল গনি। কার্যকরি সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা খান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জসীম মেহেদী,
শুভেচ্ছ বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর লেখক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এনকে সুমন পাটওয়ারী।
কবিতা পাঠ করেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র মজুমদার, কার্যকরি সদস্য মিতা ঘোষ, সদস্য হাছিনুর আকরাম ও সেঁজুতি সাহা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাহিত্য সমাজকে সুন্দর করে। সাহিত্য লিখতে হলে পড়তে হয় বেশি। একজন লেখক পড়া ছেড়ে দিলো মানেই লেখালেখি ছেড়ে দিলো। লেখকেরও ক্ষুধা আছে।তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে লেখকের বই কিনতে হবে। আবার লেখক যদি কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার সাহিত্যও নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়, সেখানেই তিনি থেমে যাবেন।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে সাহিত্য প্রেমিক লোক থাকার কারণেই সাহিত্য একাডেমি ও চাঁদপুর লেখক পরিষদ গড়ে উঠেছে। বিশ বছর ধরে চাঁদপুর লেখক পরিষদ টিকে আছে এটা একটা গর্বের বিষয়। তাই চাঁদপুর লেখক পরিষদের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সমাজের প্রয়োজনেই সাহিত্যকর্ম এগিয়ে যাক-এটাই কামনা করছি।
বিশেষ অতিথি শাহাদাত হোসেন শান্ত বলেন, চাঁদপুর লেখক পরিষদ চাঁদপুরের সাহিত্যকে সচল রেখেছে এবং সাহিত্য একাডেমির অচলায়তন দূর করে সাহিত্য কাজে বেশ অবদান রেখেছে। সাহিত্য একাডেমিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তৎকালীন জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছেন যাতে করে সাহিত্য একাডেমিকে অন্যত্র না দেয়া হয়।এ কারণে চাঁদপুর লেখক পরিষদকে  সাধুবাদ জানাই।
এতো বছর যাবৎ লেখক পরিষদ টিকে থাকা এটা সহজ ব্যাপার নয়। সবশেষে চাঁদপুর লেখক পরিষদ বরাবরের মতো তার আদর্শ  বজায় রেখে কাজ করে যাবার প্রত্যাশা করছি।
ফম/এমএমএ/

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | ফোকাস মোহনা.কম