
চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন বাজার, মাছঘাট ও হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী সবচাইতে বড় মাছের আড়তঘুরে জানাগেল ইলিশের দর দাম এবং মেঘনায় ইলিশর বিচরণের বিভিন্ন তথ্য।
শহরের ওয়ারলেছ মাছ বাজার ঘুরে দেখাগেল কয়েকজন ব্যবসায়ী জাটকা বিক্রি করছেন। সাইজে ৭-৮ইঞ্চি হবে। প্রতিকেজি দাম চাইলেন ৮৫০ থেকে ৯০০টাকা। আরেক ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন প্রতিকেজি ১ হাজার টাকা। রাবেয়া বেগম নামে একজন ক্রেতা জানালেন, বাজারে ইলিশের দেখা মিলে না। যে কারণে তিনি এককেজি জাটকা কিনেছেন ৮৫০টাকা দিয়ে।
সদর উপজেলার বহরিয়া মাছঘাটে গিয়ে দেখাগেল ইলিশ নেই। শুধুমাত্র ছোট চিংড়ি পোনা বিক্রি হচ্ছে। ওই ঘাটের ইলিশের আড়ৎগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।
হাইমচর চরভৈরবী মাছঘাট এলাকার জেলে করিম মিয়া ও শাহাবুদ্দিন বলেন, নদীতে পানি কম। সারাদিন নদীতে থাকলেও ইলিশ পাওয়া যায় না। যে কারণে এখন ছোট মাছ ধরি। ঋণ আছে, সংসার চালাতে হয় যে কারণে ছোট মাছ ধরেই সংসার চালাতে হয়।
হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাটে রয়েছে প্রায় ১৪টি ইলিশের আড়ত। কিন্তু পুরো আড়তগুলোই এখন নীরব। কিছু জেলে জাটকা সাইজের ইলিশ নিয়ে আসছে। মুহুর্তেই ওইসব ইলিশ হাকডাক দিয়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এই আড়তের পাইকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, বড় সাইজের ইলিশ নেই। ছোট সাইজের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০টাকা।
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী মাছঘাটের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে পানি কমে যায় এবং নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠার কারণে ইলিশ কম পাওয়া যায়। এখন ছোট বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করেই আমাদের আড়তগুলো চালু আছে। আমাদের নদীতে এখন ইলিশ নাই বললেই চলে। ছোট সাইজের কিছু ইলিশ পাওয়াগেলেও দাম অনেক বেশি। সারাদিনে প্রায় ২০টি আড়তে দুই থেকে তিন মণ ইলিশ বিক্রি হয়।
চাঁদপুর মাছঘাটের আড়তদার ওমর ফারুক বলেন, শীত মৌসুমে মেঘনায় ইলিশ খুবই কম। সবগুলো আড়ৎ মিলিয়ে এখন ১০ থেকে ১২ মণ ইলিশ বিক্রি হয়। তাও সাইজে ছোট। জাটকা সাইজের ইলিশের মণও ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, প্রতিবছরই শীত মৌসুমে নদীতে ইলিশ কম থাকে। যে কারণে ছোট-বড় যে সাইজের ইলিশই জেলেরা ধরে আনেন, তার দাম চড়া হয়। তবে আগামী মে মাসের পর থেকে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ তখন জাটকাগুলো সাইজে বড় হবে।



