আমি কবি জনতার

— যুবক অনার্য
চারিদিকে বর্ষা- নিবিড় ভাঙনের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া “দিনগুলি রাতগুলি “! দরোজার ওপাশে অপেক্ষাহীন বৈষয়িক অন্ধকার, সেইহেতু বিবিধ রাস্তা দিয়ে অবিরাম চলনের সাধ।অথচ এরও পাশাপাশি – অদ্ভূত-কোনো এক বিদেশিনীর ৩৬  ইঞ্চিকে প্রত্যাখ্যানের  উদ্দেশে অনর্গল মিথ্যে বলে যাওয়া- এরকমও হয় বুঝি যেনো বা বোলারের মুঠো থেকে বল ছুটে যাবার পর ব্যাটসম্যানের চৌহদ্দিতে পৌছে যাবার মুহুর্তকাল সময়ের মধ্যেই নিয়ে নিতে হবে সিদ্ধান্ত- নষ্ট  হবার কিংবা না হবার পুরনো পথাচার।অধিকন্তু এ কথা এখন রাষ্ট্র হয়ে গেছে যে,শাহেদ সাব্রিনাদের অসততার ফিলসফি নতুন কিছু নয় – ঘুরে ফিরে,ফিরে ফিরে আসে তারপর কিছুদিন পর যেনো মিইয়ে আসে সব- মানুষেরা ভুলে যায় -নিয়ম তো এরকম নিয়মের মতন!
বহুদূর বৃত্ত থেকে ফোকাস  করে একটি  কবিতা লিখবার প্রসংগ যখন  শুরু হয়ে যায়, যেমন: শ্যামলিমা, আমার  অঘনিষ্ঠ কলিগ কম বয়সে বিধবা হয়েও জড়াতে চাইছে না নতুন সম্পর্কে  কোনো আর এ সম্পর্কে আমি কিছু লিখে- কবিতা টাইপের- ছেড়ে দিলে উন্মুক্ত  – তবে খুব রেগে যাবে তিনি। আমি যে বস্তুত  বুঝতে চাইলাম  দুঃখ তার-নিজেই সে বুঝতে চাইবে না সেই দুঃখ আমার। আসলে কবিতার উপর রেগে যায় সকলেই- দেশের প্রধান ব্যক্তি থেকে শুরু করে আমলা গামলা সকলেই। এই তো সেদিনের কথা :আমি এক বিশিষ্ট জনকে বোল্লাম – জনৈক প্রশাসক আমাকে অযৌক্তিক ভাবে  পাঠিয়েছিলেন কারাবাসে,তাই  তাকে একদিন দেখে নেবো।  আর এটা সম্ভব এজন্য যে- এর প্রধান কারণ হলো- কবিতা। আমি জানি -সেই আমলাগামলারা কবিতাকে ভয় পায়, তাই আমি কিছু লিখে ছেপে দিলে ১২  টা বেজে যাওয়া খুবই সম্ভব। আসলে ইদানিং  ঝুকিপূর্ণ  সত্যভাষণগুলি আমি লিখে রাখি কবিতায়,  যে-কারণে যে-কোনো সময়ে আমি  গ্রেফতার হয়ে যেতে পারি। কেনো লিখছি  এসব, সেও অস্পষ্ট নয়।  স্বাধীনতা -উত্তর সময় থেকে যে -কথা জমে আছে মানুষের মনে,করছে হাহাকার,বলতে পারছে না  যে কথা  ভয়ে -জেল হাজতের ভয়  মৃত্যু ভয়, আমি ছেঁড়া পোড়া কাগজেই রাখছি তা লিখে এলোমেলো অগোছালো স্বভাবজাতভাবে।  আচ্ছা, প্রিয় দেশবাসি, আপনারাই বলুন তো-  আমাকে গ্রেফতার করলেই কি মহাশয়দের  হয়ে যাবে সব  সমাধান? মোটেই তা নয়। আমি গ্রেফতার হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সমগ্র মানুষ সম্বিৎ ফিরে পাবে  জেগে উঠবে  চেতনা আর  ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে আবালবৃদ্ধবণিতা সব।তবে গোপন সেই  কথাটিও বলে দেই –যখন যাবে বুঝে উঠা যে জমাট বেধে গেছে কাঙ্ক্ষিত চেতনা  মানুষের গভীর গভীরতম তলদেশে, ঠিক তখনই আমি প্রস্তুতি নিয়ে নেবো গ্রেফতারের এবং সর্বশেষ বুলেটিনে ফাঁস করে দিয়ে যাবো -কে ছিলো সত্যিকারের  রাজাকার কে ছিল  দেশপ্রেমিক  প্রকৃতপ্রস্তাবে প্রকাশ করে যাবো এখনো কারা  কারা সত্যিকারের রাজাকার, কারা কারা মুখোশ লাগিয়ে চলে দেশপ্রেমিকের।তবে এই রাজাকার আর দেশপ্রেমিক বিষয়টি হয়ে উঠেছে কেবলি রাজনৈতিক  গুটি।তাই এসব আজকাল ভাললাগে না আর।আজকাল বলতে ভাল লাগে খুব- আমাকে মেরে ফেলে তুমি সুখি হতে পারবে না হে  উচ্চ সুউচ্চ পর্বতবাসি – সময় বুঝে গুহাবাসি -কারণ আমাকে মেরে ফেলা যায় না যেহেতু  সর্বোচ্চ গোপন প্রকাশ করে দিয়ে যাই- আমি সেই কবি, আমি কবি জনতার – শিল্পের নই শিল্পিরও নই!

ফোকাস মোহনা.কম