মতলব উত্তর (চাঁদপুর): কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সদস্য নাসির উদ্দীন শাওনসহ কেন্দ্রীয় যুবদল নেতৃবৃন্দের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা করেছেন।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সুজাতপুর বাজারে মিছিল, গণসংযোগ ও রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় স্থানীয় পথচারী ও দোকানপাটে থাকা সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল বলেন, আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে রাষ্ট্র সংস্কারে তার ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট সাধারণ মানুষের হাতে হাতে পৌছে দিচ্ছি। যাতে করে সাধারণ মানুষের আস্থা বিএনপির প্রতি আরো বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোন সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করেন না। কোন দুর্নীতিবাজ লোককে প্রশ্রয় দেন না। তাই আমাদের নেতার টার্গেট হলো আগামী বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাস দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ। এই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলকে ঐকবদ্ধ্য হতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নেতার নির্দেশ আগামীর বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে এবং একজন দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। এসব নির্দেশনাসহ ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল ৩১ দফাগুলো তুলে ধরেন। তা হলো, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনপ্রাতিষ্ঠার লক্ষ্যে। সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন। সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রসত্ত্বা ‘জাতীয় সমন্বয় কমিশন গঠন। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনরপ্রবর্তন। আইনসভা, মন্ত্রীসভা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের মাঝে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা অনুর্ধ্ব পরপর দুই মেয়াদ নির্ধারন।
বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশির ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আইন সভায় উচ্চকক্ষের প্রবর্তন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি সংশোধন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনে সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের পুনগঠন ও শক্তিশালী করন। বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রবর্তন ও সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন।
গণমুখী ও জনকল্যাণমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন। মিডিয়া কমিশন গঠন করে তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ। সর্বস্তরে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। ৫. আত্মনির্ভরশীল জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন। ধর্মীয় স্বাধীনতার সর্বোচ্চ ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রদান। মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির আলোকে শ্রমজীবি মানুষের ন্যায্য মজুরী নিশ্চিত করা। প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং নবায়নযোগ্য ও বিশ্ব জ্বালানী ব্যবহারে আগ্রাধিকার দিয়ে কিন্তু্যুৎ, জ্বালানী খনিজ খাত আধুনিকায়ন। জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধিকতর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা। প্রশাসন ও সেবা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি স্বশাসিত ও ক্ষমতাবান করা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান। কর্মসংস্থানকে আগ্রাধিকার দিয়ে আধুনিক ও বুজানেনাটি যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বেকার ভাতা প্রবর্তন। সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নারীর মর্যাদা গ্রহণ। চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা। “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এবং “সার্বজনীন চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যকর করা।
প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ পল্লী স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থা করা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করা। কৃষকের উৎপাদন ও বিপণন সুরক্ষা দিয়ে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সড়ক, রেল, নৌ পথের আধুনিকায়ন ও বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং নদী শাসন ও খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণা এবং আণবিক শক্তির উন্নয়ন ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। যুগোপযোগী, পরিকল্পিত, পরিবেশ বান্ধব আবাসন এবং নগরায়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
গণসংযোগে আরো উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান, সহ সভাপতি খায়রুল হাসান বেনু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক ফয়সাল আহমেদ বাহার, সহ সাধারণ সম্পাদক সোহেল গাজী, মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাসেদজামান টিপু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফয়সাল আহমেদ সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নান, যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ বেপারী ছেংগারচর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আশরাফুল আলম সরকার, মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী, সদস্য সচিব জয়নাল পাটওয়ারী পিনু শতাধিক নেতাকর্মী।
ফম/এমএমএ/



