ফোড়া কাটাতে হাসপাতালে, বিদায়ের আগে মাথার ওপর খসে পড়ল ছাদের পলেস্তারা

চাঁদপুর : চায়ের দোকানটিই তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। ১৬ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ার পরও থেমে থাকেননি আবুল খায়ের (৪৫)। সংসারের হাল ধরেছেন, দুই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিন পার করছেন। কিন্তু মঙ্গলবার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জীবনের আরেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের ডান পায়ের তালুতে ফোড়া (অ্যাবসেস) হওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর পায়ের ফোড়া অস্ত্রোপচার করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কিছুটা সুস্থ বোধ করায় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে মাথার ওপর ভেঙে পড়ল ছাদের পলেস্তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের পুরুষ অংশে হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের বড় বড় অংশ খসে পড়ে। দেয়ালের কাছাকাছি থাকায় বড় অংশটি সরাসরি আবুল খায়েরের মাথায় পড়েনি। তবে ভাঙা পলেস্তারা মাথা ও শরীরে আঘাত করে। আহত হন একই ওয়ার্ডের আরও দুই রোগী-রফিকুল ইসলাম (৭০) ও আকতার হোসেন (৮০)। সৌভাগ্যক্রমে তিনজনের কেউ গুরুতর আহত হননি।

ঘটনার পর আবুল খায়েরকে দেখে মনে হচ্ছিল, পায়ের যন্ত্রণা যেন মুহূর্তেই ছাপিয়ে গেছে নতুন আতঙ্ক। অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তার বদলে হাসপাতালের ছাদই হয়ে উঠল নতুন ভয়।

আবুল খায়েরের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী বলেন, ও খুবই গরিব মানুষ। প্রতিবন্ধী হওয়ার পর বাড়ির দীঘির পাশে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালায়। দুই মেয়ে আছে। এমন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে এসে আবার এভাবে আহত হতে হলো।

আবুল খায়েরের জীবনটা এমনিতেই সংগ্রামের। ১৬ বছর বয়সে কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা ভেঙে যাওয়ার পর স্বাভাবিক জীবন থমকে যায়। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছেন। পায়ের নতুন সমস্যার চিকিৎসা নিতে এসে এবার হাসপাতালের ছাদ ধসের আতঙ্কও যুক্ত হলো সেই জীবনের গল্পে।

আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ছাদের কয়েকটি বড় অংশ খসে নিচে পড়ে। ভাঙা অংশের ছোট ছোট টুকরা তিনজনের গায়ে লাগে। আবুল খায়ের কিছুটা বেশি আহত হন।

খবর পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তিনি জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাধীন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি পুরোনো অবকাঠামোর কারণেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামতের কাজ চলছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম