আল-আমিন একাডেমিতে ছাত্রী শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেল ১১৭, উত্তীর্ণ ৪৫২

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শাখায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৪৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৫২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৭ জন। এ ছাড়া এ গ্রেড পেয়েছে ১৭৫ জন, এ মাইনাস ৭২ জন, বি গ্রেড ৫৪ জন এবং সি গ্রেড পেয়েছে ৩৪ জন।

প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী শাখার ইনচার্জ ফারজানা আক্তার ফলাফল পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার খুব কাছাকাছি নম্বর পেয়েছে। তাদের ফলাফল ছিল ৪.৮৯, ৪.৮৩-এর মতো। সামান্য ব্যবধানে তারা জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ফারজানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সুশৃঙ্খল পাঠদান এবং করোনাকালীনসহ বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া পড়াশোনার ঘাটতি পূরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, চার দিন ক্লাস নেওয়ার পর পঞ্চম দিনে সপ্তাহের পড়ানো বিষয়গুলোর ওপর পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়া হতো। কোথায় ভুল হয়েছে, কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে—এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিয়ে পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মকর্তা বলেন, এবার আরও কিছু শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫-এর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও সামান্য ঘাটতির কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ভবিষ্যতে এসব শিক্ষার্থীর দিকে আরও নিবিড় নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী যেন একটি মাত্র বিষয়ে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক ও শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি। গণিতেও কয়েকজন শিক্ষার্থী দুর্বলতার কারণে অকৃতকার্য হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

ফারজানা আক্তারের ভাষ্য, আল-আমিন একাডেমির লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তাদের ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-সব পর্যায়েই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় প্রায় ৯০০ আসনের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কলেজ শাখাতেও ভালো ফলাফল ও শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে চাঁদপুরবাসীকে আরও ভালো ফলাফল উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ফম/এমএমএ/

কে এম সালাহউদ্দিন | ফোকাস মোহনা.কম