
চাঁদপুর : প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে না পারায় চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।
সরবরাহ কম থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে জেলেরা নদীতে নামতে পারবেন এবং তখন ইলিশের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হরিণা মাছঘাটের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, ঘাটে ২৪ জন আড়তদার থাকলেও বর্তমানে মাছের আমদানি খুবই কম। সারাদিনে বড় আকারের ইলিশ এসেছে প্রায় দুই মণ।
তিনি বলেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ছোট আকারের ইলিশ, যেখানে ৬ থেকে ৭টি মিলে এক কেজি হয়, সেগুলোর দাম ছিল কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনে বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এর চেয়েও কম মাছ এসেছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে জেলেরা আবার নদীতে নামতে পারবেন। তখন ইলিশের আমদানি বাড়বে এবং বাজারও স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
পাইকারি বাজারদরের বিষয়ে তিনি জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল প্রতিমণ ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। আর তিনটি মিলে এক কেজি হয়, এমন আকারের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, বর্তমানে ইলিশের আমদানি অত্যন্ত কম। সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফম/এমএমএ/



