হাইমচরে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও স্থায়ী বাঁধের দাবি তরুণদের

চাঁদপুর : চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেছেন স্থানীয় তরুণরা। ইউনিয়নবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দুই দফা দাবি নিয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন তাঁরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়নের মাঝেরচর এলাকার মাঝির বাজারসংলগ্ন নদীর পাড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ইউনিয়নের যুবসমাজের পক্ষে জে এস জিসান, শামীম সরকার, মান্নান হাওলাদার, হৃদয় পেদা ও সুজন ঢালীর উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন করছেন উদ্যোক্তারা। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

উদ্যোক্তারা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া। নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাপে কাটা রোগী ও প্রসূতিদের জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে না পারায় এ ধরনের রোগীর অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

তাঁদের মতে, একটি সরকারি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হলে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সহজ হবে। এতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, নদীভাঙন নীলকমল ইউনিয়নের মানুষের বসতভিটা, জীবিকা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

উদ্যোক্তারা বলেন, আমরা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। স্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে আমাদের দুই দফা দাবি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানাব। আমরা চাই, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম