সন্তানকে দ্বীনি ও কোরআনের শিক্ষা দিতে না পারায় মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে

চাঁদপুর প্রেসক্লাবে তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদরাসা সবক প্রদান অনুষ্ঠান

চাঁদপুর : সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা ও পবিত্র কোরআনের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চাঁদপুরের ইসলামপুর গাছতলা দরবার শরীফের পীর খাজা মো. ওয়ালী উল্লাহ। তিনি বলেছেন, সন্তানদের মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হলেও অনেক মা-বাবা বৃদ্ধ বয়সে তাদের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান ও যত্ন পান না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সন্তানদের দ্বীনি ও কোরআনের শিক্ষার অভাবের কথা উল্লেখ করেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদরাসার সবক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খাজা মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “অনেক মা-বাবা সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত পড়ান। কিন্তু মা-বাবা যখন বৃদ্ধ হয়ে যান, তখন অনেক সন্তান তাঁদের খোঁজখবর নেয় না, ভালো আচরণও করে না। এর অন্যতম কারণ হলো, সন্তানদের যথাযথভাবে দ্বীনি শিক্ষা ও কোরআনের শিক্ষা দিতে না পারা।”

তিনি বলেন, চাঁদপুর শহরে তানযীমুল উম্মাহর কার্যক্রম শুরু হওয়া এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। যেসব অভিভাবক সন্তানদের কোরআনের হাফেজ-হাফেজা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দ্বীনি ইলমে শিক্ষিত করতে আগ্রহী, তাঁরা সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের এ প্রচেষ্টাকে কল্যাণময় করুন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মা-বাবার উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করা এবং সন্তানদেরও সেই অনুযায়ী গড়ে তোলা। এতে সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকশিত হবে এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আখিরাতের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, “আমাদের স্থায়ী ঠিকানা হলো আখিরাত। তাই আখিরাতের শান্তি ও সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় আমল ও ভালো কাজগুলো আমাদের অবশ্যই করতে হবে। তাহলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইকরামুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলাদাতপুর রাব্বানিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও মান্দারী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহবুবুর রহমান আল মাদানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসাতুল ইসলামিয়া উলুম আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহিম পাটওয়ারী, ঢাকা পিডব্লিউডি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সালাউদ্দিন চাঁদপুরী, মিশন রোড শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ এবং চাঁদপুর বাইতুল আমিন জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবু জাফর।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ শাখার প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাখার সহকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আমপারা সবক, ২১ জনকে নাজেরা সবক এবং পাঁচজন শিক্ষার্থীকে হিফজের সবক প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী সংগীত ও তানযীম সংগীত পরিবেশন করে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং ইসলামী সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদরাসার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, কোরআনের শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সবক প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম-ওলামা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফম/এমএমএ/

কে এম সালাহউদ্দিন | ফোকাস মোহনা.কম