চাঁদপুর: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আজকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ তিন চতুর্থাংশ ভোট পেয়ে তখন নির্বাচিত হয়েছিল। সেটাকে সুষ্ঠু হয়নি, সেটা কি কারচুপির নির্বাচন ছিল? তখন ৩০০ আসনে মাত্র ২৯ আসন পেয়েছিল বিএনপি। এই হচ্ছে বিএনপির প্রকৃত শক্তি। আপনারা যারা হিন্দু ভাই-বোন রয়েছেন তারা আগামী দুই মাস পরে যে নির্বাচন সে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে আসবেন এবং আবার শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করবেন। কারণ এদেশের জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের সার্থে তার ক্ষমতায় থাকা দরকার।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চাঙ্গিনী দুর্গাবাড়ীর সার্বোজনিন দুর্গা মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এদেশের জনগণের দোয়া আর্শিবাদ নিয়ে শেখ হাসিন আবারও ক্ষমতায় আসবেন। কারণ তিনি তাঁর পিতার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কমপক্ষে আরো ১০ বছর সময় লাগবে। তারপরে জাতির পিতার যে স্বপ্ন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
সেলিম মাহমুদ বলেন, এই রাষ্ট্র সকল নাগরিকের। হিন্দু জনগোষ্ঠীর যে পুজা উৎসব, সেটি শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ। তেমনি ঈদও আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়েছে। আমাদের ধর্ম পালন করা তার ব্যাক্তিগত দায়িত্ব। কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব যদি আমি সঠিকভাবে প্রতিপালন না করি, এমনকি আল্লাহ সে দায়িত্ব থেকে আমাকে মুক্ত করতে পারবেন না। তবে আমরা আল্লাহর হুকুম পালন না করলে তিনি আমাদের ক্ষমা করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আপনাদের সাথে এই পূজা উৎসবে যোগ দেয়া এটা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। এটা কোন নির্বাচনে ভোট দেয়া, জয় লাভ করা, ক্ষমতায় আসার জন্য নয়। এটি হচ্ছে আমাদের ভাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও মানবিকতা।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। এই উপমহাদেশে অনেক জাতি স্বত্বা আছে। সমগ্র ভারতবর্ষে দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ভাঙালি যার নিজের একটি রাষ্ট্র আছে। এই রাষ্ট্রের শ্রেণী পেশার প্রত্যেক মানুষ হচ্ছে নাগরিক। আর নাগরিক হচ্ছে রাষ্ট্রের মালিক। এই সাংবিধানিক নীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে অসংবিধানিক শক্তি, স্বৈরশক্তি, সামরিক শাসক জিয়ার নেতৃত্বে তারা আমাদের রাষ্ট্রের যে মৌলিকত্ব অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র অর্থাৎ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র এটিকে নষ্ট করে দিল। ধর্ম নিরপেক্ষতার বিধানকে বাতিল করে দিল। এর ফলে ১৯৭৫ সালের পরে আওয়ামী লীগ সরকারের বাহিরে যে সকল শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে। সর্বশেষ ২০০১ সালে নির্বাচনের পর কচুয়া থেকে শুরু করে সারাদেশে, বিশেষ করে আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে হিন্দু ভাইদের ওপর নির্যাতন, লুটতরাজ এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি রাশ মোহন দাসের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন-কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ওমর ফারুক শামীম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান ও সুজন দাস প্রমূখ।
এসময় মন্দির কমিটির নেতা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে পূজা উপলক্ষে ইউনিয়নের মন্দিরগুলোর জন্য ড. সেলিম মাহমুদ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান প্রদান করেন।
ফম/এমএমএ/



