কচুয়া (চাঁদপুর): অশ্রুশিক্ত নয়নে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে দশমী বিহিত পূজার লগ্ন শুরু হয়। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এইদিন উপজেলার ৩৯টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্যদিয়ে বুধবার থেকে শুরু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসেছেন ঘোটক বা ঘোড়ায় চড়ে, আর মর্ত্যলোক ছেড়ে যাবেন নৌকায় চড়ে। এর মধ্যদিয়ে দেবী মর্ত্য ছেড়ে স্বর্গে ফিরেন।
অষ্টমী ও নবমীতে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাছির, সহকারি পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) আব্দুল হাই, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, উপজেলার বিএনপির সাবেক মেয়র হুমায়ন কবির প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ এলাহী ,বিএনপির নেতা শাহজালাল প্রধান জালাল, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এপিএস মাহবুব আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী, জিয়া পরিষদের সভাপতি নওশের আলম মিয়া, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম,পৌর ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম শরীফসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায় ও ৩৯টি পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ১৪৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পূজামণ্ডপে ভক্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে উদ্যাপিত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সবার মঙ্গল কামনা করেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে যায় দেবী দুর্গার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ‘আসছে বছর আবার হবে’ এই প্রত্যাশা আর প্রার্থনায় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
পঞ্জিকা মতে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এ জন্যই বিজয়া। বিজয়া দশমীর কথাটি শুনলেই মন বিষাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু এ কথাটাও আমাদের ভুললেই চলবে না যে, এই দিনে মা বিজয়ী হয়েছিলেন, এই মা সফল হয়ে ছিলেন। তবুও এই দিনে মা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এ কথা মনে পড়লেই মন অশান্ত হয়ে উঠে।
বিজয়া দশমীর তিথিতে মা সকল অশুভ শক্তির বিনাশ করেন এবং সারা বছরের জন্য আমাদের আনন্দে ভরিয়ে রেখে যান। সেই লোকাচার বাংলার ঘরে ঘরে সিঁদুর খেলা হিসেবে পরিণত হয়েছে। সিঁদুর খেলার পাশাপাশি চলে কোলাকুলিও।
কচুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ফনী ভূষণ মজুমদার তাপু ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা জানান, এবার কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৩৯ট মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সুষ্ঠু, সুশৃংখলভাবে শারদীয় দুর্গা উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আনসার বাহিনী, সাংবাদিকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান এক্য পরিষদের সভাপতি প্রাণধন দেব ও সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তুষ পোদ্দার জানান, ৩৯ টি মন্ডপে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও সকল জাতীগোষ্ঠীর সহযোগীতায় শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব পালনে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
ফম/এমএমএ/রাছেল/


