চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে দেশর অন্যতম মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাধের সড়ক সুড়ঙ্গ করে একাধিক স্থানে ড্রেজার পাইপ স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তবে ভয়ে ড্রেজার মালিকদের নাম বলতে রাজি হননি স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব পাইপ অপসারণ করা হবে। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কার্যকর প্রদক্ষেপ না নেয়ায় বার বার সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিন বাধের ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকা থেকে মোহনপুর ইউনিয়নের পর্যটন এলাকার দক্ষিণে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণ পর্যন্ত তিনটি ড্রেজার পাইপ সুড়ঙ্গ করে স্থাপন অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে এসব এলাকায় এসব ড্রেজার পাইপ সড়কের উপরে স্থাপন করা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানের কারণে রাখতে পারেনি। তবে এবার ড্রেজার চক্র সড়ক সুড়ঙ্গ করে স্থায়ীভাবে পাইপ স্থাপন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সেচ প্রকল্পের চারপাশে নদী। পশ্চিম অংশে মেঘনা এবং বাকি অংশে ধনাগোদা নদী। যে কারণে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা কোন ধরণের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে প্রায় সময় ড্রেজার পাইপ স্থাপন করে। তবে তারা এখন কৌশল পরির্তন করে সুড়ঙ্গ করা শুরু করেছে। মূল্যবান এই বেড়িবাধ সড়ক নিয়ে বর্ষার সময় স্থানীয় বাবিন্দারা আতঙ্কে থাকেন। বর্ষার এই মৌসুমে বাধে কোন ভাবে ফাটল দেখাদিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার হাজার কৃষক ও বাসিন্দা।
সুগন্ধি এলাকার একাাধিক বাসিন্দার সাথে কথা হয় ড্রেজার মালিকদের বিষয়ে। তারা কেউই সঠিকভাবে ড্রেজার মালিকদের নাম বলতে পারেননি। তবে এক ব্যবসায়ী জানালেন হাসান নামের এক ব্যাক্তি সুগন্ধি এলাকার ড্রেজার পাইপ স্থাপন করেছেন। মোহনপুর এলাকায় কেউ ভয়ে নাম বলতে রাজিন হননি। তবে মোহনপুর এলাকার ড্রেজার মালিকরা রাতে এই পাইপের নদী অংশে অবস্থান করেন।
এই বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বহুবার এই ড্রেজার পাইপ ভেঙে দেয়া হয়েছে। এরপরেও আবার তারা স্থাপন করে। তবে আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বলেছি তারা যেন ওই স্থানগুলোতে ড্রেজার পাইপ স্থাপন না করতে ওই পথ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া স্থানীয় লোকজন ড্রেজার মালিকদের নাম ঠিকানা না দেয়ায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত সময়ে আবার অভিযান করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে প্রকেল্পর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তারা ড্রেজার পাইপ স্থাপন করা দেখলেও অপসারণ করার কোন ধরণের উদ্যোগ নেননি। তাদের নিরবতার কারণে বাধ বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে সক্রিয়।
চাঁদপুর মেঘনা ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদকে ড্রেজার পাইপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ওইসব ব্যাক্তিকে নোটিশ করা হবে।
ফম/এমএমএ/



