শাহমাহমুদপুরে বাড়িতে ঢুকে পৈশাচিক হামলা ও ভাঙচুর

ভাগ্নির নিরাপত্তা চেয়ে ‘রোষানলে’ মামা

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার  শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে এক ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাগ্নির ওপর চলা নির্যাতনের বিচার চাওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যেন কাল হলো মামা ও নানার জন্য। বুধবার দুপুরে ১নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গাজী বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে এক যুবককে, বাদ যাননি তার বৃদ্ধ পিতাও।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, কৃষ্ণপুর গাজী বাড়ির মোঃ মামুন গাজীর ভাগ্নি কাজলী বেগম (২১)-এর সাথে প্রায় তিন বছর আগে মুন্সি বাড়ির প্রবাসী মোবারক হোসেনের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই কাজলীর ওপর চলত অমানুষিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি শাশুড়ি ও ননদ মিলে কাজলীকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
সূত্র জানায়, সালিশে ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও কাজলীর মামা মোঃ মামুন গাজী (৩৫) সেখানে ভাগ্নির জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা তো এখন মিটিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু পরবর্তীতে আমার ভাগ্নির কোনো ক্ষতি হলে তার নিরাপত্তা কে দেবে?”
এই যৌক্তিক প্রশ্নটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মামুনের এই সাহসী অবস্থানে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষ হজল হক মুন্সি ও তার পরিবার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে মামুন গাজী বাড়ির ঘাটে গোসল করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। কাজলীর দেবর মোঃ আল-আমিন (২৮) দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মামুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মামুনকে বাঁচাতে তার বৃদ্ধ পিতা আব্দুল বারেক মাস্টার (৭৫) এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে আঘাত করা হয়।
হামলাকারীরা কেবল মানুষকেই আহত করেনি, বরং পুরো ঘরবাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ঘরের দামি থাই গ্লাস ভেঙে চুরমার করে দেয়।
স্থানীয়রা মামুন গাজীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মামুনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, আহত আব্দুল বারেক মাস্টারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে রাখা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মামুনের বোন নার্গিস বেগম বলেন, আমার ভাই হার্টের রোগী আর বাবা স্ট্রোকের পেশেন্ট। তারা জানত যে এরা অসুস্থ, তবুও পশুর মতো মারধর করেছে। স্রেফ ভাগ্নির নিরাপত্তার কথা বলায় আমাদের এভাবে নিঃস্ব করে দিল। আমরা এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম