চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, আগ্নেয়াস্ত্রসহ বহিরাগতদের নিয়ে তারই ভাতিজা মাহাবুব ও আবু জাফর পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একদল উশৃঙ্খল লোক সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে তারা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৬টায় ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৩নম্বর ওয়ার্ডের শাহাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ৬টি গাড়ি নিয়ে প্রায় শতাধিক লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। তারা হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করে এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। বাড়ির প্রতিটি ঘরের জানালায় কালো কাপড় বেঁধে দেয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান, আবার কেউ কেউ ঘরের দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন।
বাড়িতে হামলার ঘটনার সংবাদ শুনে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। একইসঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিক আবদুস সালাম ও কনেস্টেবল সুমন ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুস সালাম জানান, সংবাদ পেয়ে আমি ও সহকর্মী মেহেদী ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একদল লোক সীমানা প্রাচীর ভাঙছে। ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন এসে আমাকে মারধর করে এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আমি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।
অভিযুক্ত আবু জাফর পাটওয়ারী দাবি করেন, এটি আমাদের সম্পত্তি। গত ৫ আগস্টের পর মোতাহার পাটওয়ারী জোরপূর্বক এখানে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। আমরা আমাদের সম্পত্তি দখলমুক্ত করেছি।
অন্যদিকে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, তারা শতাধিক সন্ত্রাসী এনে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো-এত অস্ত্র নিয়ে বহিরাগতরা এলাকায় ঢুকে হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেল, অথচ প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অতীতেও তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে এবং চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান ঘটনাও সেই পুরনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি।
স্থানীয় লোকজন জানান, মধ্যযোগিয় কায়দায় বহিরাগতদের ও আগ্নেয়াস্ত্র-দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আতষ্কিত করছে। তারা ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিজেরাই হামলা করে কয়েকদিন পর পর তামাশা শুরু করে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, বহিরাগতদের দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/



