
।। ফয়েজ আহমেদ।। বেগম খালেদা জিয়া চলে গেলেন- একজন অদম্য নেত্রী, যিনি শুধু রাজনৈতিক সংগ্রামে নয়, দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিকামী মানুষের প্রতি তার অটল ভালোবাসা দিয়ে জাতির হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শূন্যস্থান তৈরি করেছে, কিন্তু তার জীবন ও সংগ্রাম অনন্তকাল ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোষহীন নেত্রী, যার জীবনজুড়ে লক্ষ্য ছিল দেশকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নেওয়া। একের পর এক ষড়যন্ত্র, জেল-জুলুম, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং দুই পুত্রের ওপর চলা নৃশংস নির্যাতন- এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি কখনও মানুষের অধিকার ও মুক্তির পথে আপোষ করেননি। তার জীবন বিপন্ন হয়েছিল কারাগারে সুচিকিৎসার অভাব এবং বিভিন্ন সময়ে খাবারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে, কিন্তু এসবের মধ্যেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সাহস তাকে কখনও ভেঙে দিতে পারেনি। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি গণতন্ত্রের রক্ষক, মুক্তিকামী মানুষের মা, যার সাহস ও দৃঢ়তার সামনে প্রতিকূলতাও কখনো দাঁড়াতে পারেনি।
ষড়যন্ত্রমূলক জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলাসহ বিভিন্ন দূর্নীতি মামলায় তাকে জড়ানো হলেও, তার জীবনে সম্পদের পাহাড় গড়া বা দূর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এই সততা তার নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে সত্যিকার নেত্রীকে কখনো ভুল দৃষ্টিতে আঁকা যায় না।
তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো জাতির জন্য এক দৃষ্টান্ত। জেল-জুলুমের স্রোত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পারিবারিক ভোগান্তি—সবই তার পথচলায় অন্তরায় সৃষ্টি করেছে, কিন্তু তিনি কখনও আপোষ করেননি। তার জীবন আমাদের শিখিয়েছে যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে সাহস, ধৈর্য, একাগ্রতা এবং নৈতিক অটলতা অপরিহার্য।
খালেদা জিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে ওঠে দেশের মানুষের জন্য মায়ের মতো যত্ন ও দায়িত্ববোধ। তিনি ছিলেন সেই মা, যিনি গণতন্ত্রের নামে লড়াই করেছেন এবং প্রতিটি মুক্তিকামী নাগরিককে পথ দেখিয়েছেন। তার জীবন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনীতির অম্লান ইতিহাসে চিরজাগ্রত থাকবে।
আজ যখন খালেদা জিয়ার দেহ আমাদের ছেড়ে গেছে, তার আদর্শ, নৈতিকতা এবং সংগ্রামের চেতনা আমাদের মাঝে অমর। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন নেত্রী শুধু ক্ষমতা নয়, ন্যায়, সততা এবং মানুষের মুক্তির প্রতীকও হতে পারেন।
বেগম খালেদা জিয়া চলে গেলেন, কিন্তু গণতন্ত্রের মা ও মুক্তিকামী মানুষের মা হিসেবে তার প্রতিচ্ছবি চিরকাল অনন্য থাকবে।
লেখক: গণমাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।


