চাঁদপুর সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ

চাঁদপুর :  চাঁদপুর সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত কুকুর-বিড়ালের ভ্যাকসিন টাকার বিনিময়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদারের বিরুদ্ধে।

সরকারি সরবরাহ না থাকার কথা বলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে এভাবে ভ্যাকসিন বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়। শহরের বাসিন্দা দেলোয়ার আহমেদ সরকার জানান, পোষা বিড়ালকে ভ্যাকসিন দিতে হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি সরবরাহ নেই বলে জানান। পরে ২৫০ টাকা দিলে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলেন। টাকা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা নিজের ড্রয়ার থেকে ভ্যাকসিন বের করে বিড়ালের শরীরে প্রয়োগ করেন।

অন্য কয়েকজন কুকুর-বিড়াল পালনকারীও অভিযোগ করেন, সরকারি ভ্যাকসিন না থাকার কথা বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা দিতে রাজি হলে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পোষা প্রাণীর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শামীম তালুকদার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের জলাতঙ্ক ও ফ্লু প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ আসছে না। এ কারণে তিনি একটি কোম্পানি থেকে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখেন, যাতে সেবা নিতে আসা মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে ও মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি হাসপাতালে বসে বাইরের কোম্পানি থেকে ভ্যাকসিন এনে বিক্রি করলে তা বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পশুপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকেরা।

ফম/এমএমএ/

মিজান লিটন | ফোকাস মোহনা.কম