মতলবে ফেসবুকে ব্যবসায়ী রশিদকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

রশিদসহ ছবিতে থাকা লোকজন সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের জালাল উদ্দিন প্রধানিয়া বাড়ির ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রশিদ প্রধানের বিরুদ্ধে একই বাড়ির রহুল আমিনের ছেলে মো. তারেক প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানির পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রশিদ। ঘটনার বিষয় স্বীকার করেছে তারেক পরিবার। স্থানীয়দের দাবী এই ধরণের অপপ্রচারকারী ব্যাক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, বাড়ির লোকজনের সাথে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তারেক প্রধানিয়া গাড়ী চালক। তিনি চট্টগ্রামে থাকেন। অবসর পেলে বাড়িতে আসেন। একই বাড়ির হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো। স্থানীয়দের ভাষ্য, একবাড়ির লোক হরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। ওইসব বিষয়ে আইন-আদালত রয়েছে। কিন্তু একজন ব্যক্তিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে অবান্তর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো গুরুতর অপরাধ।

প্রধানিয়া বাড়ির শহীদ উল্যাহ বলেন, আমি নিজেই একজন প্রবাসী। আব্দুর রশিদ প্রবাসে ছিলো। দুই বছর পূর্বে দেশে এসেছে। তার সাথে কোন জগড়া বিবাদ নেই। গত একবছর পূর্বে নাগদা বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। তার বিষয়ে এলাকার কোন ব্যাক্তি কটু কথা বলতে পারবে না।

দীর্ঘ বছর রশিদের গনিষ্ঠ লোক নবীর হোসেন। তিনি বলেন, তার সাথে তিন দশকের বেশি পরিচয়। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাকে পরিচালনার জন্য দিয়েছি। ছোট বেলা থেকেই রশিদ একজন নামাজি এবং নীরিহ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে তারেকের এমন জগণ্য মিথ্যা অপবাদ ও কথা ছড়ানো খুবই দু:খজনক। আমরা তার এমন গুরুতর অপরাধের বিচার দাবী করি।

এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, রশিদের বাবা আলফাজ উদ্দিন প্রধান বেঁচে নেই। তিনি খুব ভালো লোক ছিলেন। রশিদ আমাদের সামনে বড় হয়েছে। তার বিষয়ে আমরা কোন ধরনের খারাপ কথা শুনিনি। বাড়ি নয়, এলাকার কারো সাথে তার কোন বিরোধ নেই। এমনকি রশিদ কারো কোন ধরণের ক্ষতিও করেনি। তাকে একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে সকলে চিনেন এবং জানেন।

এছাড়াও এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানালেন, ব্যবসা দেওয়ার পর আমরা রশিদকে দেখে আসছি। সে অত্যন্ত ভদ্র এবং বিনয়ী। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করে।

ওই বাড়িতে যাওয়ার পর এগিয়ে আসে অভিযুক্ত তারেকের বোন তানজিনা। তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিয়েছে তারা সবাই রশিদ কাকার লোক। তাকে বলা হয়, আপনাদের লোক থাকলে আসতে বলেন এবং বক্তব্য দিতে বলেন। কিন্তু তারেকের পক্ষে কেউ বক্তব্য দিতে আসেনি।

তানজিনা এই প্রতিবেদককে বলেন, তারেক ফেসবুকে যেসব পোস্ট করেছে এসব সত্য। এগুলো অমরা অস্বীকার করবো না।
এদিকে তারেকের ব্যাক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করা ওইসব ছবিযুক্ত ফোস্ট এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত।

ভুক্তভোগী আ. রশিদ বলেন, আমি প্রবাসে ছিলাম। এখন বাজারে ইলেকট্রিক ব্যবসা করছি। তারেক পরিবারের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। সে ইচ্ছে করে নিজে এবং লোকজন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। গত ৬ অক্টোবর রাত ৩টার পরে তাকের আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে। এসব বিষয় আমি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের জানিয়েছি। তারেকের এই ধরণের কর্মকান্ডের বিচার দাবী করছি।

এদিকে অভিযুক্ত তারেক মুঠোফোনে জানান, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে রশিদ পরিবারের সাথে বিরোধ আছে। ফেসবুকে যেসব লেখা তুলে ধরা হয়েছে, তা সঠিক এবং সত্য। এসব তথ্য সঠিক নয়, যদি তিনি চ্যালেঞ্চ করতে চান করতে পারেন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম