শসার কেজি ২ টাকা, তবুও মিলছেনা ক্রেতা

‘মনে করছিলাম এইবার শসা বেইচ্যা গতবারের ঋণডাও শোধ করবাম। কিন্তু সব মাডি অইয়া গেল। শসায় আছিন ভরসা, অহন দেহি সব নিরাশা। কিবায় কী করবাম, মাথায় আসমান ভাইঙ্গা পড়ছে।

’ ঋণ করে ৬০ শতক জমিতে শসা চাষ করেছিলেন মো. রহমত আলী। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরাঞ্চলের একজন কৃষক। স্বপ্ন দেখেছিলেন শসা চাষে লাভবান হয়ে ঋণ পরিশোধের। কিন্তু বাজারে শসার দাম না থাকায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে তার ফসল। তাই ক্ষোভে ওপরের কথাগুলো বলছিলেন রহমত আলী।

একই অবস্থা কৃষক ইলিয়াছ আহম্মেদের। তিনি জানান, এ বছর এক বিঘা জমিতে শসার আবাদ করেছেন। ১৫ রমজান পর্যন্ত ৪০ টাকা কেজি দরে কিছু শসা বিক্রি করতে পেরেছেন। এরপর হঠাৎ করে আর ক্ষেত থেকে কেউ শসা নিতে আসেনি। স্থানীয় বাজারেও শসার কেজি ১০ টাকা। তবে এখন শসায় আগ্রহ নেই ক্রেতাদের।

তিনি আরো জানান, তার মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করতে পেরেছেন তিন হাজার টাকার মতো। আর বিক্রি করতে না পেরে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে শসা।

জানা যায়, উপজেলার চর ও বীর বেতাগৈর ইউনিয়নে শসা আবাদ করছেন অনেক চাষি। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবহরাহ করা হয় এই শসা। কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও পাইকাররা কৃষকের ক্ষেত থেকেই শসা কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন। কিন্তু হঠাৎ এ বছর শসার দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসার খুচরা মূল্য ১০ টাকা। তবে ক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীরা কিনতে গেলে দাম ধরছেন ২-৪ টাকা। যা কৃষকের খরচের চেয়েও অনেক কম।

নান্দাইল চণ্ডীপাশা নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সওদাগার বলেন, শসার চাহিদা খুবই কম। শুধু প্রদর্শনীর জন্যও অনেক সময় দোকানে রাখতে হচ্ছে। আবার পচনশীল ফসল হওয়ার কারণে বেশি দিন রাখাও যায় না। সব মিলিয়ে আমাদের লাভ হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান  বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারে শসার লক্ষ্যমাত্রা কম ছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হেক্টর। তবে চাষাবাদ হয়েছে ১২০ একর। অন্যদিকে প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্রিক টন ফলনের কথা থাকলেও ১৫ মেট্রিক টন হয়েছে। তবে রোজা শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে শসার। সে কারণেই ক্রেতা পাচ্ছেন না কৃষকরা।-খবর কালের কন্ঠ অনলাইন।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম