মতলব উত্তরে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ : ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুল ছাত্রী

স্থানীয় ইউপি সদস্য কর্তৃক সমাধানের আশ্বাস

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জনৈকা এক কিশোরী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতঃপর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য কর্তৃক সমাধানের আশ্বাস দিয়ে হয়নি সমাধান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা গ্রামের জনৈক দেলোয়ার হোসেনের স্কুল পড়ুয়া কিশোরী মেয়ের সাথে একই গ্রামের সানকিভাঙ্গা (ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মসজিদ) বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহবুব (৩৫) এর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিশোরী মেয়েকে বিভিন্ন লোভ লালসা প্রলোভন দিয়ে কৌশলে প্রায় সাত মাস ধরে মসজিদের ইমাম ধর্ষণ করে আসে। এতে করে ওই স্কুল পড়ুয়া কিশোরী মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এদিকে ওই মেয়ের শরীরের গঠন অন্তঃসত্ত্বা দেখা দেয়ায় পরিবার থেকে চাপ দিলে সে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহবুবের নাম বলে। এ ঘটনায় ঐ কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। মাওলানা মাহবুবের বাড়ী পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জে।

কিশোরী জানায়, বিভিন্ন সময় মসজিদ ইমাম (মাহবুব) আমার শরীরের বিভিন্ন হাত দিত। আমি বাঁধা দিতাম, সে বাঁধা মানতো না। একদিন সে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসব কথা কোথাও জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করার কথ বলে। তাই আমি ভয়ে কোথাও জানাতে সাহস পাইনি। সর্বশেষ আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে মিলিত হত।

কিশোরীর মা জানান, এই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন মল্লিক ও জাফর মল্লিককে জানালে তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু আজ অবদি কোন সমাধান পাইনি। এখন জানতে পারলাম ইমাম (মাহবুব) নাকি চলে গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে মেয়ের পরিবার এবং তার মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ আর এই গরীব হওয়ার সুযোগে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সর্বনাশকারী মসজিদের ইমাম মাহবুবের বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

ইউপি সদস্য দেলোয়ার মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমি জানি। একদিন রাত ২টার সময় আমাকে কিশোরীর পরিবারের লোকজন জানিয়েছে আমি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলাম কিন্তু পরদিন জানতে পারলাম ইমাম সাহেব পালিয়েছে। তবে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঘটনাটি সত্য।

এ বিষয়ে জহিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন সেলিম মিয়া মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়টি শুনে খুবই মর্মাহত। যদি অভিযোগ আসে তহলে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিব।

ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম