ভয়ংকর খেলনা, শিশু শিখছে সহিংসতা

খেলায় খেলায় সহিংসতা শিখছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। সন্তানের আবদার মেটাতে গিয়ে খেলার জন্য অভিভাবকরা যেসব খেলনা তাদের কিনে দিচ্ছেন তার অনেকগুলোই বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মারণাস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের আদলে তৈরি। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, হুবুহু আসলের মতো দেখতে এসব খেলনাসামগ্রী পেয়ে শিশুদের অনেকের আচরণ সহিংস হয়ে উঠছে।

এমনকি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও এসব খেলনা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ আছে। খেলনার পাশাপাশি সহিংস কনটেন্ট-নির্ভর বিভিন্ন ভিডিও গেমের মাধ্যমেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।-খবর বিডি প্রতিদিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের খেলনাসামগ্রী আমদানি ও বিক্রির জন্য দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। আর বিধিনিষেধ না থাকায় খেলনা ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। রাজধানীর বায়তুল মোকাররকম মার্কেটের আশপাশের ফুটপাথে শিশুদের খেলনা বিক্রি করা হয়। কয়েকটি দোকানে ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির খেলনা পিস্তল, রাইফেল, তীর-ধনুক বিক্রি করা হয়। পিস্তল ও রাইফেলে ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিক দিয়ে বানানো বুলেটও রয়েছে।

দোকানগুলোতে খেলনা পিস্তল ছাড়াও নানা ধরনের চাকু, তলোয়ার, ম্যাকগাইভার চাকু, খেলনা এ কে-৪৭ রাইফেল, তীর-ধনুক, গুলতি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। কম বয়েসী অনেক শিশুই অভিভাবকের সঙ্গে এসে কখনো বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে সেখানে গিয়ে এসব খেলনা কিনছে। বায়তুল মোকাররম এলাকা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন সুপার শপ, বড় বড় শপিং মলের খেলনার দোকানেও আরও আধুনিক ও ভয়ংকর দেখতে সব খেলনা আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন শপেও এখন এ ধরনের খেলনা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাকালে অনেক শিশু-কিশোর চারদেয়ালে বন্দী থেকে ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। আর ভিডিওগেমগুলোর বেশিরভাগই সহিংস। টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সহিংস এসব গেম খেলে শিশুদের মনস্তত্বে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে বিবেচনা করা উচিত।

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার  বলেন, সহিংস খেলনা দিয়ে খেলার ফলে স্পষ্টভাবে শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর শিশু যদি সব সময় সহিংস খেলনা দিয়ে খেলে তাহলে সে ধরেই নেয় এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক। শিশুর কল্পনাতে এসব থেকে যাবে। যেহেতু একটি শিশুর মন ছোট বয়স থেকে গড়ে উঠে এ জন্য পরিবেশের প্রভাবটা শিশুদের ওপরে বড়দের চেয়ে বেশি। শিশুরা বিচার-বিবেচনা করে কোনো কিছু গ্রহণ করে না। খেলাচ্ছলে শিশুদের মনকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম