বিএসপি নেতা ছেংগারচর পৌরসভার সহায়ক সদস্য হওয়ায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর কিছুদিন পর গত ২০ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা কর্তৃক ৯টি ওয়ার্ডে সহায়ক সদস্য হিসেবে ৯ জনকে নিয়োগ পেয়েছে। এরমধ্যে ৬নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সহায়ক সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি বিএসপি’র নেতা। তাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, চলছে সমালোচনাও।

জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাচিত প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশেষ জটিলতার কারণে নির্বাচন হয়নি। পরে গত মে মাসে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ হেদায়েত উল্লাহকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে সরকার। এরপরই ৯টি ওয়ার্ড থেকে একজন করে সহায়ক সদস্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৬নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সমন্বয়ক এবং মতলব উত্তর উপজেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।

ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ টি জেলা ও উপজেলায় সমন্বয়ক হিসেবে বিএসপি’র কমিটি গঠন করেছেন। তিনি একজন বামদলীয় নেতা হয়েও পৌরসভার সহায়ক সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন, অথচ আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী তা হতে পারলেন না। তাই নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ উত্তেজনা।

৬নং ওয়ার্ডের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তাদেরকে এ ব্যাপারে কেউ জিজ্ঞেস করেনি। মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (হারুন) কিভাবে সহায়ক সদস্য হইল তা আমরা জানি না। হয়তো ৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী নেই, তাই হয়তো অন্য দলের লোককে সহায়ক সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছে। পৌরসভার অনেক নেতাকর্মীর ভাষ্য দু’একটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী সহায়ক সদস্য হয়েছে। আর বাকীগুলো নব্য আওয়ামী লীগ।

এ ব্যাপারে কথা হয় ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, ছেংগারচর পৌরসভার সহায়ক সদস্য কিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা আমি জানি না। আমরা যারা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ করি, আমাদের কাছ থেকে নাম চাইলে যাচাই বাচাই করে নাম দিতে পারতাম। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডেই নব্য আওয়ামী লীগ আর দু’একটিতে আছে আওয়ামী লীগই করে না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো ঢাকায় বসেই গোপনে নাম নিয়ে সদস্য হিসেবে নিয়োগ করে দিয়েছে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম