বাগাদীতে জমি খারিজের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ!

চাঁদপুর: জমি খারিজের নাম করে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর আলমের বিরুদ্ধে। যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১হাজার ১শ’ ৭০ টাকা করে দুই জনের কাছ থেকে ২ হাজার ৩শ’ ৪০ টাকা নেয়ার কথা, কিন্তু নিয়েছে ৩২ হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কয়েকমাস পূর্বে বাগাদী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রব গাজী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন জমি খারিজের জন্য। তখন অফিস সহকারী সেলিম তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবী করেন। বিষয়টি তিনি ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর আলমকে জানালে তিনি বলেন দেন। আপনার এলাকারইতো লোক। এক পর্যায়ে রব গাজীর সাথে সেলিমের ১২ হাজার টাকায় রাফাদফা হয়। একইভাবে জমির খারিজের জন্য ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল মজুমদারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর।

এছাড়াও আরো একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ভূমি কর্মকর্তা আলমগীরের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর অত্যন্ত চতুর ও টাকা ছাড়া কোন ফাইলে তিনি সই করেন না। অথচ ভূমি অফিসের প্রবেশ মুখে চোখে পড়ে বড় করে লেখা ‘এই অফিস দূর্নীতি ও দালালমুক্ত’। পাশাপাশি জমি খারিজসহ অন্যান্য কাজে সরকারি যে ফি রয়েছে তার তালিকাও সাঁটানো রয়েছে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রব গাজী বলেন, ‘আমি প্রায় ৫ মাস আগে জমি খারিজের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাই। সেখানে অফিস সহকারী সেলিম আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। তখন আমি বিষয়টি ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর আলমকে জানাই। তিনি বলেন, দেন আপনার এলাকারইতো লোক। পরে আমার সাথে ১২ হাজার টাকায় কথা হয়।’

অফিস সহকারী সেলিম বলেন, ‘আমি রব গাজীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছি এটি সত্য। এখন উনি যদি চায় প্রয়োজন হলে উনার টাকা দিয়ে দিব। ভাই টাকা আমি একা নেইনি। সাথে সাথে আমি ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর সাহেবকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমাদের অফিসের মেয়েটার সামনে উনাকে টাকা দিয়েছি। ইসমাইল মজুমদারের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছি সেটাও আমি ওনাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। সব অফিসের খাতায় লেখা আছে।’

তবে ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর আলম বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছুই জানিনা। এই বিষয়টি আমার স্টাফ সেলিম লেনদেন করছে।’
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘যার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাকে আমার কাছে অভিযোগ করতে বলেন। আমি এখন কিছুই বলতে পারবো না।’
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম