ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ইভটিজিং, তিন যুবক গ্রেফতার

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রামদাসেরবাগ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ইভটিজিং, শ্লীলতাহানী ও নির্যাতনের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানায় ৩ যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ইভটিজিং এর শিকার শিক্ষার্থীর মা। এর আগে সকালে ওই মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ৩ বখাটে যুবকের ইভটিজিং এর শিকার হন শিক্ষার্থী।

গ্রেফতারকৃত যুবকরা হলেন- মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল (২২), মো. মারুফ হোসেন (১৯) ও রবিন (১৮)।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইভটিজিং ও নির্যাতনের এর শিকার শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় ১০ দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশি হেফাজতে দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ ও সজিব হোসেন জানান, অভিযুক্ত তিন যুবক প্রতিনিয়তই এলাকায় মাদ্রাসা যাওয়া আসার পথে ছাত্রীদের উত্যক্ত করতো। আজকে ওই শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে বখাটেরা প্রথমে ভুক্তভুগি শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী করে তার ওড়না ছিড়ে ফেলে। এরপর তাকে চড় থাপ্পড় দিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। শিক্ষার্থীর ডাক-চিৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও বখাটেদের আটক করে।

তারা আরো জানান, খবর পেয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহামন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আতিক খানসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা শিক্ষার্থী ও বখাটেদের মাদরাসায় নিয়ে যান এবং ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল ফরায়েজিসহ সঙ্গীয় ফোর্স মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ শোনেন। এ সময় অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করলে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রীকে ইভটিজিং, শ্লীলতাহানী ও নির্যাতনের অভিযোগ এর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেয়েছি। শুধু আজ নয়, এর আগেও এমন অভিযোগ শোনা গেছে। ছাত্রীরা নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে অভিযোগ করে না।

তিনি বলেন, আবদুর রহিম (৩২) নামের যুবক ফরিদগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা ও উচ্চবাচ্য করেন। এসময় সে নিজেকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়াম্যানের ছেলে পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান, অসদাচরণ, অশ্রাব্য গালাগাল ও হুমকি দেন।

এদিকে বিকেলে ঘটনাটি জানতে পেরে ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগর সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন। তিনি থানায় গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদ হোসেনকে বলেন, কে কার ছেলে, কোন দলের জানতে চাইবেন না। অপরাধীদের শাস্তি এবং আইনের আওতায় আনা আপনার দায়িত্ব।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন  বলেন, ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত তিন যুবক থানা হেফাজতে রয়েছে।

ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম