জলাবদ্ধতায় পাকা ধান কাটতে না পেরে হাজীগঞ্জের কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

ছবি: সংগ্রহীত।

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতায় বিস্তৃর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধান কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ পানি জমলে ও সেই পানি জমিতে আটকে থাকার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসণ ছাড়া এই মুহুর্তে পাকা ধান রক্ষার কোন উপায় নেই বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের বাকিলা-দেবপুর কৃষি মাঠ, ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের আড়ুলি, দক্ষিন বড়কুল, রায়চোঁ, সেনাইমুড়ি কৃষি জমির মাঠ, ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ডাকাতিয়া নদীর চরাঞ্চল, ১০ নং গর্ন্ধব্যপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি মাঠসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইরি-বোর ধানের কৃষি জমিতে পানি আটকে রয়েছে। জমিগুলোতে পানি আটকে থাকার কারণে পাকা ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা।

এছাড়াও স্থানীয়ভাবে পানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম খালগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই কৃষি জমিতে পানি আটকে থাকে। সেই আটকে থাকা পানি কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে গলার কাটায় পরিণত হয়। যে কোন মাঠের পাকা ধান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাটা সম্ভব না হলে পাকা ধান জমিত ঝড়ে পড়ে যাবে। আর ঝড় বৃষ্টি হলে আরো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন কৃষকরা।

জানাগেছে, উপজেলার বাকিলা-দেবপুর কৃষি জমির মাঠের ইরি-বোর ধানের জমির পরিমান প্রায় দেড় একর। উত্তরে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক দক্ষিনে চাঁদপুর লাকসাম রেলপথ। এই এলাকায় ইরি-বোর কৃষি জমির মাঠের ধান ইতিমধ্যে পেকেছে। কিন্তু ঈদের দিন ও তারপরের দিন সকালের বৃষ্টির কারণে ওই মাঠের কোন পানি মাঠ থেকে নামতে পারেনা। ফলে মাঠে পানি থাকার কারণে পাকা ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা। ২/১ দিনের ওই মাঠের পাকা ধান না কাটলে সকল ধান জমিতে পড়ে যাবে।

উক্ত মাঠের সেচের কাজে নিয়োজিত মালিক ও ম্যানেজার শাহ-আলম জানান, মাঠের পানি নামতে গেলে প্রায় ৬০/৭০ বছর আগে নির্মিত চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বাকিলা গ্রামের বেপারী বাড়ির সামনে কালভার্ডের বন্ধ মুখকে খুলে দিতে হবে। একই অংশে সড়কের উত্তর পাশে সড়ক বিভাগের খালে থাকা বক্স কালভার্ডগুলোকে সরিয়ে দিতে হবে। তবেই গোগরায় সওজের ব্রীজের নিচ নিয়ে পানি ডাকাতিয়া নদীতে নেমে যেতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা না নিলে পুরো মাঠের সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।

একই মাঠের কৃষক বাকিলা বেপারী বাড়ির মরহুম সামছূল হক বেপারীর ছেলে খলিলুর রহমান জানান, আমার বেশ কয়েকটি জমির ধান পেকে গেছে। জমিতে পানি থাকায় ধান কেটে আনতে পারছি না।

বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন জানান, বেপারীর বাড়ির পুকুরের উত্তর পাশে সড়ক বিভাগের কালভার্ডের মুখ বন্ধ রয়েছে। এটি খুলে দিলে পুরো মাঠের পানি উত্তর পাশের সড়কের খাল ধরে নেমে যাওয়ার কথা। আবার উত্তর পাশের খালে মাছ চাষ ও বেশ কয়েকটি পরিবার সড়কের খালের নীচ লেভেলের একটু উপরে তুলে কালভার্ড তৈরি করার করার কারনে পানি নামতে পারছে না। যার কারণে কৃষি জমির পানি নামতে পারছে না।

উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, আমার ইউনিয়নে অপরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট, দখল করার কারণে কৃষি জমির পানি নামছে পারছে না। বিশেষ করে আড়ুলি মাঠ, দক্ষিন বড়কুল মাঠ, রায়চোঁ মাঠ, সোনাইমুড়ি কৃষি জমির পাকা ধানের মাঠে পানি আটকে রয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি কৃষি জমিতে পানি আটকে থাকার কথা আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে উপজেলার সভায় আলোচনা হয়েছে। আশা করি সহসায় এটির একটি সমাধান হবে।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম