চড়া দাম, ক্রেতা নেই রূপালী ইলিশের

চাঁদপুর: জাটকা রক্ষার নিষেধাজ্ঞা শেষে মে মাসের দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের প্রাপ্যতা খুবই কম। স্বল্প সংখ্যক রূপালি ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়লেও চাহিদার তুলনায় কিছুই না। বাজারে স্থানীয় ইলিশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বসে থাকলেও ক্রেতা নেই। ইলিশের চড়া দাম শুনে অন্য মাছ দিয়ে চাহিদা মিটছে দৈনন্দিন।

সোমবার (১৬ মে) শহরর সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার পালবাজার ও নতুন বাজারে খুচরা মাছ বিক্রেতাদের সাথে ক্রেতাদের দর দামের এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।

পালবাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা খলিল গাজী বলেন, তিনি বরফ ছাড়া সদরের হরিণা ফেরিঘাট থেকে ক্রয় করা কয়েক হালি ইলিশ নিয়ে বিক্রির জন্য বসেছেন। ক্রেতারা দাম শুনে চলে যায়। ২৫০গ্রাম সাইজের রূপালী ইলিশের কেজি ১ হাজার টাকা। সাধারণ এই ধরণের ছোট সাইজের ইলিশের কেজি সর্বোচ্চ ৩৫০টাকা। কয়েকগুন দাম বেশী হওয়ার কারণে চলে যাচ্ছেন ক্রেতা।

আলম নামে একজন ক্রেতা বলেন, ছোট সাইজের ইলিশের কেজি হাজার টাকা শুনে আর দরদাম করিনি। অন্য মাছ দেখে নিয়ে যাব।

নতুন বাজারের একাধিক খুচরা ইলিশ বিক্রেতার একই অবস্থা। তাদের সামনেও ক্রেতা নেই। তাদের সাথে আলাপ হলে জানান, মেঘনায় ইলিশের আমদানি খুবই কম। রূপালি ইলিশের চাহিদা বেশী। বেশী দামে ক্রয় করে কম দামে বিক্রি করাত সম্ভব নয়। যাদের চাহিদা আছে তারা বেশি দাম হলেও ক্রয় করেন। তবে ইলিশের এমন চড়া দাম আগে খুব কমেই দেখাগেছে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী ফারুক জানান, স্থানীয় রূপালী ইলিশের আমদানি খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ গনমাধ্যমকে বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে কম। আগামী জুলাই-আগস্টে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নদীতে ইলিশের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। তখন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়বে। সেপ্টেম্বর অক্টোবরে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তখন দামও ক্রেতাদের নাগালে চলে আসবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম