চাঁদপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ন নির্বাচন হবে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতিকের প্রার্থী এম এ হান্নান, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ হান্নান দল থেকে বহিস্কার হলেও নেতাকর্মীদের অধিকাংশ তার সাথে নির্বাচনী প্রচারণায়। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্রের সাথে বিএনপি প্রার্থীর।
ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারি ২০জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন। অন্য আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম থাকায় সবার চোখ এখন এই আসনে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪লাখ ৬৩১জন। পুরুষ ভোটার ২লাখ ৮হাজার ৬০৩ এবং নারী ভোটার ১লাখ ৯২ হাজার ২৭জন। হিজড়া ভোটার ১জন। জেলা পুলিশের তথ্যে এই আসনে একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ৫৬টি।
এই আসনে এই তিন প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম, ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন, গণফোরামের মো. মুনির চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুল মালেক বুলবুল ও স্বতন্ত্র ঘুড়ি প্রতিকের প্রার্থী জাকির হোসেন।
বিএনপি থেকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর শুরু হয় এই আসনে উত্তেজনা। বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। তার নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরের সড়কে জালাও পোড়াও আন্দোলন করে প্রার্থী পরিবর্তনে জন্য। বিষয়টি সামাল দিতে না পেরে দল থেকে পুরো উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দলিয় কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এম এ হান্নানকে বহিস্কার করে এবং হারুনুর রশিদকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীও প্রচারণায় রয়েছেন সমান তালে। এসব কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ।
বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতিকের প্রার্থী এম এ হান্নানের সমর্থকরা বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে আসছে। তার পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আমার গাড়ি বহরে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এটি কখনো কাম্য নয়। তিনিও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানান।
জামায়াতের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আমরা সমসময় অন্য প্রার্থীদের প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।
চাঁদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনি বিষয়ে কাউকে নূন্যতম ছাড় দেয়া হবে না। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
ফম/এমএমএ/


