চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীর উপর আরেকটি সেতু হচ্ছে 

ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা শহরে  ডাকাতিয়া নদীর উপর আরেকটি সেতু হচ্ছে ।  এটি  শহরের দক্ষিন পূবর্দিকে অবস্থিত শহরতলীর  ইচলীঘাটে  উল্রেখ্য, এটি  হবে চাঁদপুর শহরে  এ সরকারের দ্বিতীয় সেতু । প্রমত্তা  মেঘনার শাখা নদী  ডাকাতিয়া। সবাই বলে, এটি শান্ত নদী, ধীরে বহে ডাকাতিয়া । এটির নেই কোন ঢেউ, নেই কোন গর্জন।নেই কোন নদীভাংগনও । 

সদরের দক্ষিণ পুর্বাঞ্চলের  হাজার  হাজার নারী পুরুষ ও শিশুর / জনগনের  দীঘর্দিনের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদ সদস্য  শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি  ও চাঁদপুরের পৌর মেয়র  এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলেরে ওইকান্তিক  প্রচেষ্টায় এ সেতুর কাজ  হাতে নেয়া হয়েছে।

একান্ত আলাপনে এমনটাই   জানালেন চাঁদপুর পৌর মেয়র  ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা  এড, জিল্লুর রহমান জুয়েল ।

তিনি আরো জানান, এ সেতু নিমির্ত হলে চাঁদপুর  শহরের  দীর্ঘ দিনের যান জট অনেকটাই (৬০%)  নিরসন হবে।  মানুষের দীঘর্দিনের লালিত স্বপ্নও বাস্তবে রুপ নিবে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে এটা হবে একটি মাইলফলক।  ডাকাতিয়া নদীর উপর  চাঁদপুর জেলা শহরে এটা হবে এ সরকারের দ্বিতীয় সেতু।  প্রথম সেতুটি চাঁদপুর নতুনবাজার –পুরানবাজার সংযোগ সেতু, নিমির্ত হয় ২০০০  সালে। ওটা ছিলো  চাঁদপুরবাসীকে দেওয়া  তখনকার (১৯৯৬) বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওয়াদা।

যোগাযোগ করলে   ডাকাতিয়ার উপর  নতুন এ সেতু নির্মানের  তথ্য নিশ্চিত করেন   সড়ক জনপদ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো শামসুদ্দোহা তিনি বলেন, এব্যাপারে সড়ক জনপদ  বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো: মনির হোসেন পাঠান অনুমোদনও দিয়েছেন সম্প্রতি  

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে   বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ টীম ইচলী ঘাট  এলাকায় উভয় পাড়ে সয়েল টেষ্ট , লোকেশন অন্যান্য প্রাসংগিক সম্ভাব্যতা/জিনিষ  সমীক্ষা করেছেন আরো সমীক্ষা করা হবে। এরপরে কাজ অগ্রসর হবে তবে সেতুটি কত টাকার  প্রকল্প বা কে তহবিলদাতা  বা কবে নাগাদ সেতুর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে এখনো কিছু  স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে নাতিনি বলেন,  এটা জানা যাবে আরো কিছুদিন পরে।  

 ওদিকে ডাকাতিয়া নদীর  উপর  ইচলীঘাটে  সেতু হচ্ছে যেনে স্থানীয় এলাকাবাসী খুবই উদ্বুদ্ব তাঁরা সবাই আশায় বুক  বেঁধে আছেন, স্বপ্নের জাল বুনছেন প্রতীক্ষায় আছেন কবে,  কখন সেতুর  কাজ  বাস্তবে শুরু হচ্ছে   সেতু নির্মানকে কেন্দ্র করে তাঁরা  ভবিষ্যত পরিকল্পনাও করছেন। 

ইচলী গ্রামের মাসুদ মাঝি (৪৫), সফিকুর রহমান মাঝি (৬৫),  ফজল বেপারি (৫০),  হারুন খাঁ (৪৫) বাদল মিয়া (৪০), বালিয়া গ্রামের  মুক্তিযোদ্ধো  আজিজ খান (৬৫)সহ এলাকাবাসী সবাই উদ্বুদ্ব তাঁরা বলেন, এখানে সেতুর নির্মাানের দাবী গত ৫০ বছরের   ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে   ইচলী  ঘাট ইচলী পূর্ব  দক্ষিন অঞ্চলের বালিয়া দক্ষিন পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব ছিলো উল্লেখকরার মতো পূর্ব ইচলী  গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা  কলন্দর গাজী পৈত্রিকবাড়ি আশপাশের বাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলো পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকারদের সহায়তায় 

তাঁরা  দাবী  জানান, দ্রুত সেতুর কাজ শুরু   করা হোকে   এটি   সম্পন্ন করা হলে  চাঁদপুর জেলা শহরের  দীঘর্দিনের যানজট ৫০% লাঘব হবেজেলার  দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের  বিশেষ করে সদরের   বাগাদী, ঢালিরঘাট, বাগড়া, শাপদী, রামপুর, ছোট সুন্দর, আলগী, শাহতলী, মৈশাদী,  ফরিদগঞ্জ  উপজেলার ও, লক্ষীপুরের  রায়পুর, রামগঞ্জের  হাজার হাজার মানুষ, সিরিয়াস/ সংকটাপন্ন রোগী  স্বল্প  সময়েস্বল্প খরচে দ্রুত চাঁদপুর শহরে, হাসপাতালে  আসতে পারবে  এবং  লঞ্চঘাটে পৌঁছে  লঞ্চ-স্টীমার  যোগে বেশ আরামে ঢাকাতে  যেতে পারবেএসব এলাকার  ব্যবসা বাণিজ্য আরো চাংগা হবেগাড়ীর  তেল মুল্যবান সময় অনেকটা কমে যাবে দ্রুত পাল্টে যাবে   সদরের ও আশপাশ এলাকার  মানুষের জীবনধারা আলোকিত হবে চির অবহেলিত অন্ধকার এলাকা  ইচলী, বাগড়া, বাগাদী ও তৎসংলগ্ন এলাকার। 

লোকজন  বলেন,  এখানে সেতু হলে , আমাদের অনেক অনেক সুবিধা হবে । হাজার হাজার জণগনের  দু:খ দুদর্শা লাঘব হবে। মানুষ দু হাত তুলে  সরকারকে দোয়া করবে।  

জেলা  শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম স্থানেরবিশেষ করে  বাস স্ট্যান্ড, ওয়ালেস বাজারচাঁদপুর কলেজের সামনে, ষোলঘরে, চিত্রলেখার মোড়ে, শপথ চত্বরে, হকার্স মাকেটের সামনে, মাতৃপীঠস্কুলের পাশে  মোহসীন রোডে, হাসান আলী সরকারি হাইস্কুলের মোড়ে, জেলা শহরের যানঝট ৫০৬০ ভাগ কমে যাবে বলে ধারনা অভিজ্ঞ ভুক্তভোগীজনের 

এখানে সেতুর অভাবে এসব এলাকার মানুষ  প্রতিদিনই কষ্ট পাচ্ছে সময়   টাকাপয়সা  অনেক ব্যয় হচ্ছে। জেলা শহরে জেলা শহরের মধ্যদিয়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ , মুন্সীগঞ্জ , বরিশাল ফরিদপুর, শরিয়তপুর  যাওয়ার  জন্য নদীরপাড়ে লঞ্চঘাটে যেতেআসতে  

 এলাকাবাসী  দ্রুত সেতু বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি  এমপি সদাশয় সেতু মন্ত্রীর কাছে

ফম/এমএমএ/

অধ্যাপক দেলোয়ার আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম