ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে তরমুজ, ক্রেতা নেই !

ছবি: সংগ্রহীত।

‘পানিরও তো একটা দাম আছে। কিন্তু তরমুজের তার চেয়ে দাম কম।  আমি ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। মোটেও বিক্রি হয়নি। ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে তরমুজ। ’

কান্নারত কণ্ঠে মঙ্গলবার (১০ মে) বিকেলে  গনমাধ্যমের  কাছে এভাবে অভিযোগ করছিলেন খুলনার দাকোপের আনন্দনগর গ্রামের তরমুজ চাষি শেখ আবু সাঈদ।

এ সময় তিনি বলেন, ৫-১০ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ক্ষেত থেকে ১০-২০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। সেই তরমুজ বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাষির কাছ থেকে কম দামে তরমুজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

একই গ্রামের চাষি কামরুল বলেন, ১০ বিঘা তরমুজ কেটে বসে আছি। কোথায় যাবো, কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। এখন হতাশ হয়ে পড়েছি। ঢাকা নিয়ে যেতে ২৫-৩০ হাজার টাকা পরিবহন খরচ। তরমুজের কোনো দাম নেই। যা খরচ করেছি তার চার ভাগের একভাগও দাম পাচ্ছি না।

ছোট চালনার চাষি বাবুল শেখ বলেন, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। তরমুজ বিক্রি করতে পারিনি। কেউ দামই বলে না। বাজারে তরমুজের দাম হলেও ক্ষেত থেকে তরমুজ নিতে কোনো ব্যাপারি আসেননি। আমার দুই ভাইয়ের ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে তরমুজ। ক্ষেতেই তরমুজ পচে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। খরচ ওঠাতে পারব কিনা সে দুশ্চিন্তায় আছি।

বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুরের চাষি আরুণী সরকারের মেয়ে বীথি সরকার বলেন, আমার বাবা ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। এখন তরমুজ ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে। কেউ কিনতে আসছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, এবছর জেলায় ১৩ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাকোপে সাত হাজার ৬২৫ হেক্টরে। এছাড়া বটিয়াঘাটায় তিন হাজার ৬০০, পাইকগাছায় এক হাজার ৫১০, কয়রায় ৮৯৫, ডুমুরিয়ায় ৩৫০, রূপসায় পাঁচ, তেরখাদায় তিন ও ফুলতলা উপজেলায় এক ও মেট্রো থানায় আরও এক হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

সিনিয়র খুলনা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহরিয়ার আকুঞ্জী  বলেন, চাষিরা তরমুজ মাঠ থেকে বিক্রি করতে না পেরে মোকামে নিলে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। দাকোপ ও বটিয়াঘাটার কিছু কৃষকের তালিকা নিয়েছি। আমাদের কিছু উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কেনার ব্যবস্থা করছি। গত বছর এভাবে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের কিছু লাভ হয়েছিল।-খবর বাংলানিউজ২৪.কম।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম