ইভটিজিং মামলা তুলে নিতে বাদীর বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চাঁদপুর: ইভটিজিং এর মামলা তুলে নিতে বাদীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকালে চাঁদপুর শহরের উত্তর পশ্চিম বিষ্ণুদী মৃধা বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
ঘটনার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মৃত সানাউল্লাহ মৃধার ছেলে সালাম মৃধা (৩০) বিভিন্ন সময় মাদক সেবন করে বিভিন্ন মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করত। সালাম মৃধা মাদক সেবন করে আলমগীর মৃধার মেয়ে অভিযোগকারীনিকে বিভিন্ন সময় পথে ঘাটে উত্ত্যক্ত করতো। অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে কু প্রস্তাব দিত। অভিযোগকারী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে অভিযুক্ত সালাম মৃধা জানতে পেরে ৮ আগস্ট সোমবার বিকেলে অভিযোগকারীনিকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক চিৎকার চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত সালাম মৃধা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন ট্রিপল নাইনে ফোন করলে ঘটনাস্থলে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ চলে আসে। পুলিশ সুকৌশলে ঘটনার দিন মাদক সেবী যৌন নিপীড়নকারী সালাম মৃধাকে আটক করে।
পরে পুলিশের সহায়তায় যৌন নিপীড়নের শিকার আলমগীর মৃধার মেয়ে বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন ৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে।
অভিযুক্ত সালাম মৃধার বিরুদ্ধে মামলা করায় বৃহস্পতিবার সকালে তার ৪ ভাই মনির মৃধা, ফারুক মৃধা, শাহাদাত মৃধা ও মামুন মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগকারীর বসত ঘরে আকস্মিকভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার ঘটনা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালেহ উদ্দিন কে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ আসার কথা টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
অভিযোগকারীর চাচা মিজানুর রহমান মৃধা জানান, অভিযুক্ত সালাম মৃধা মাদক সেবী ও বখাটে। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা করায় তার চার ভাই আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নেওয়ায় আজ আমাদের বসত করে হামলা করেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালেহ উদ্দিন বলেন, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, আমরা আসামিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছি। বাদীর বসত করে হামলার অভিযোগ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনান ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম