২২ বছর ধরে ব্রিজ আছে, রাস্তা নেই!

একটি রাস্তার আশায় ২ যুগ ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন হাকালুকি হাওর পাড়ের কয়েক সহস্র মানুষ। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের বড়দল ও কাড়েরা গ্রামসহ কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন গ্রামের কৃষকরা শ্রীকন্টি বিল থেকে হাকালুকি হাওরে যাতায়াত করার জন্য একটি খালের উপর নির্মিত হয় এই রাস্তাটি। ব্রিজটির উপর দিয়ে হাওরের একদম নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত কৃষি জমি চাষাবাদ করতো লোকজন।

স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার জন্য এই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত যাওয়া আসা করতো। বর্তমানে প্রায় ২২ বছর থেকে এই ব্রিজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যেখানে নেই কোনো সংযোগ সড়কের অস্তিত্ব।

বর্তমানে কৃষকদের চলাচলের জন্য সেখানে পাকা ব্রিজ থাকলেও নেই কোনো সংযুক্ত রাস্তা। এই কারণে স্থানীয় এলাকার কৃষিজীবী মানুষ ও জেলেদের নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কৃষিকাজ ও মাছ চাষের জন্য হাওরে যেতে হয়। ব্রিজের উভয়পাশে রাস্তাটিতে পর্যাপ্ত মাটি ভরাটের মাধ্যমে নতুন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ৪/৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

সরেজমিন স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করলে তারা জানান, ১৯৯৭ সালের দিকে সরকারিভাবে এলজিইডির স্বল্পব্যয়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজ ও এক কিলোমিটার মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এলাকার মানুষ ৫-৬ বছর এই ব্রিজ ও রাস্তা ব্যবহার করে তাদের কৃষিকাজ রীতিমতো করে আসছিলেন। কিন্তু বিগত কয়েক দফায় বন্যার ফলে এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এই রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করার জন্য আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয় বড়দল গ্রামের সেলিম আহমদ, আতিক আকমল, মোহাম্মদ শামীম, দিলু খাঁ, শাহীন আহমদ, বদরুল ইসলাম, কাড়েরা গ্রামের কনর মিয়া, পাবেল আহমদ, পাপলু চৌধুরী, ফজলে রাব্বি, রিমন চৌধুরী, ছকাপন গ্রামের বাবলু আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই রাস্তাটি কৃষকদের জন্য হাওরে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হওয়ার ফলে সারাবছরই অনেক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে নানা কষ্টের শিকার হতে হয়। সেতুর সাথে বড়দল-ছকাপন সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা ভারী কৃষিজ পণ্য ও গৃহপালিত পশু নিয়ে অনেক কষ্টে হাটু পানি ভেঙে খাল দিয়ে পার হচ্ছি। বন্যায় রাস্তাটি অনেক আগে ধসে যায় যা আর কখনও পুনঃনির্মাণ করা হয়নি।

সচেতন নাগরিক সমাজ-ছকাপন এর আহবায়ক সৈয়দ আব্দুল হামিদ মাহফুজ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের যাতায়াতে সুবিধার্থেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিলো এবং সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে এর সুফল পেয়েছে। কিন্তু রাস্তায় পর্যাপ্ত মাটি না থাকার কারণে সবাইকে এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে হাওরে চলাচল করার সুবিধার্থে বড়দল থেকে ছকাপন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক পুনঃনির্মাণ করলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হতো।

স্থানীয় ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, ব্রিজ যেহেতু আছে সেখানে রাস্তা করা খুবই জরুরি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। গ্রামীণ অবকাটামো উন্নয়ন খাত টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে এই রাস্তাটি নতুন করে মেরামত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফম/এমএমএ/

নিউজ ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম