১শ’ ২০ টাকার তরমুজ হাত বদলে হয়ে যাচ্ছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা

হাজীগঞ্জ থেকে ভোলার তরমুজ যাচ্ছে ঢাকা, চট্র্রগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালিতে

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জে জমেউঠেছে তরমুজের আড়ৎদারী ব্যবসা। সরাসরি ভোলা থেকে এ তরমুজ আনা হয় হাজীগঞ্জে। এখানের পাইকারী আড়ৎ থেকে তরমুজ চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালিতে। চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহ ও পবিত্র রমজানের কারণে বাজারে বেড়েছে তরমুজার চাহিদা ফলে দামও আকাশ ছোঁয়া। ফলন কম হওয়া বাজারে তরমুজের চাহিদা বেশী থাকায় দাম আকাশ ছোঁয়া বলে জানান পাইকারী বিক্রেতারা। তরমুজের ফলন কম হলেও দাম বেশী হওয়ায় পাইকার, আড়ৎদার ও শ্রমীকদের কাজে চাঙ্গা মনোভাব লক্ষ করা গেছে।

দ্বীপাঞ্চল ভোলার চরচন্দ্র থেকে ১৪ হাজার তরমুজ বিক্রয় করতে জাহাজে করে হাজীগঞ্জে নিয়ে এসেছেন কৃষক মেহেদি। তিনি জানান, ১০ কানি জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়নি। তিনি জানান, লস হবেনা তবে লাভও আশারনুরুপ হবেনা। প্রতি হাজার তরমুজ ছোট-বড় এক সাথে আমরা বিক্রয় করছি ১২০- থেকে ১৫০ টাকায়।

আজ দুপরে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের হাজী ফল ভান্ডার, ভাই ভাই ফলের আড়ৎ, রাজা ফল ভান্ডার, জিন্নাত এন্টারপ্রাইজ, আল্লাহর দান ফলের আড়ৎ, মানিক ও মন্নান মিয়াসহ বিভিন্ন গোদিতে ঘুরে দেখা যায় পাইকারদের মিলন মেলা।

নদীপথে আসা ট্রলার থেকে তরমুজ মাথায় করে আড়ৎদারের ঘরে গুনে গুনে আড়তে তুলছে শ্রমিকরা। পাইকার ও হকারগন পিচ হিসাবে ছোট তরমুজের দাম ৪০/৫০ টাকা, বড় তরমুজ ২৫০ টাকা থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত গড়ে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রতি শত বিক্রি হচ্ছে।

দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পাইকাররা এসব দামে ট্রাক বোজাই করে তরমুজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়। তাদের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হাজীগঞ্জের পাইকাররা বেশী দামে তরমুজ ক্রয় করে তা উপজেলার বিভিন্ন হাট বিজারে পিচ হিসাবে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫-৭ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে আসছে।

এখানকার কয়েকজন আড়ৎধার ও বেপারী এবং পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রসালু ফল তরমুজ দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, খুলনা, বরগুনা, পাথরঘাটা এলাকা থেকে স্থানীয় চাষীদের কাছ থেকে ট্রলার যোগে বেপারীরা নিয়ে আসেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। এখান থেকে আবার দেশের দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চল, কুমিল্লা, হবিগুঞ্জ, সিলেট, ভ্রামনবাড়ীয়া, ফেনী, চিটাগাং সহ প্রায় ৩০-৩৫ জেলার পাইকাররা ট্রাকে করে তরমুজ নিয়ে যায়।
ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম