হয়রানির কারণে চাঁদপুরে করমেলায় করদাতাদের ভীড়

চাঁদপুর: বছরের নতুন অর্থ বছর অর্থাৎ জুলাই মাসের পরেই করদাতাদের কর দেওয়ার কথা থাকলেও কর অফিসে এসে বিভিন্নভাবে হয়রানি হওয়ার কারণে মেলায় এসে কর দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন অনেকে। যার ফলে গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে সোমবার (১৮ নভেম্বর) পর্যন্ত চাঁদপুর স্টেডিয়ামের হলরুমে ও ভিআইপি পেভিলিয়নে আয়োজিত কর মেলার স্টলগুলোতে করদাতাদের ভীড় দেখাগেছে।

সোমবার বিকেলে মেলার স্টলগুলো ঘুরে শিক্ষক, সরকারি চাকুরজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকদেরকে কর দিতে দেখাগেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন করদাতা জানান, জুলাই মাসের পর থেকেই করা দেয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু চাঁদপুর কর অফিসে গিয়ে কর দেয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দিতে গেলে ওই অফিসের লোকজনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফরম লিখতে গিয়ে ছোট খাট ত্রুটি পাওয়াগেলেও ওই অফিসের লোকদের ধমক শুনতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে অফিসের নিম্ন পদবীর লোকদেরকে ম্যানেজ করতে পারলে জমা দেওয়ার কাজটি খুব সহজেই করা হয়। এ ক্ষেত্রে কর অফিসের জামেলার কারণে অনেকেই অফিসে গিয়ে কর দিতে রাজি হন না।

মেলায় রিটার্ন দিতে আসা হাইমচর সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মেলা ছাড়া অন্য সময় রিটার্ন জমা কিংবা কর দেয়া যায় তারা জানেন না। যে কারণে মেলায় রিটার্ন জমা দিতে এসেছেন।

সফরমালি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, তিনি এ বছর থেকেই নতুন কর দেয়া শুরু করেছেন। এই বিষয়ে আগ থেকে তিনি নিয়ম কানুন জানেন না। তাই মেলাতেই এসেছেন কর দিতে।

চাঁদপুর কর অফিসের সহকারী কর কমিশনার মো. আলাউদ্দিন বলেন, মেলায় সকলেই স্বাচ্ছন্দভাবে কর দিচ্ছেন। আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করছি। এবার আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে, তা ছাড়িয়ে যাবে।

মেলা ছাড়া অন্য সময় কর দেওয়া যায় না করদাতারা বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বাজেটের পরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করি। হয়তবা করদাতার পত্রিকায় দেখেননি কিংবা সচেতনতার অভাব।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম