হাসপাতালের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে

চাঁদপুর:  সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের সাথে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা  রবিবার (৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়। “স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় ও আমাদের প্রত্যাশা” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাকের সহ-সভাপতি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ সাজেদা পলিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু হবে। তিনি আরও বলেন, এখন হাসপাতালের করোনা রোগীর চাপ কম। আজ হাসপাতালে ২৫০জন রোগী ভর্তি আছে। ৪৬জন রোগীকে কোন বিছানা দিতে পারি নাই। হাসপালে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ মাসের মধ্যে আইসিইউ চালুর পরিকল্পনা আছে। আইসিইউ চালু হলে দুইজন রোগীর বিপরীতে একজন ডাক্তার ও একজন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স থাকতে হবে। এব্যাপারে অতিরিক্ত জনবল বিশেষ করে নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় ও ক্লিনার মন্ত্রণালয়ে চাওয়া হয়েছে। করোকালীন সময়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি বন্ধ থাকলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার চালু করা হবে। তিনি বলেন, একজন রোগীর সাথে একাধিক লোক আসার কারণে হাসপাতালের পরিবেশও বিনষ্ট হচ্ছে। এব্যাপারে জনগণকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ন্যায্য মূল্যের ঔষধের দোকানে ভাউচার দেওয়া হয় না মর্মে আমার কাছে বিগত ছয়মাসে কোন অভিযোগ না আসার কারণে ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে যে ছোট ছোট সমস্যাগুলো আছে তা সমাধান করা হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মী নাই। হাসপাতালের দালালের দৌরাত্মও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী অর্থবছরে ১২জন আনসারের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও বাজেট চাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভা আয়োজন করার জন্য তিনি সনাক-টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ সাজেদা পলিন বলেন, সনাকের আয়োজনে সরাসরি এই প্রথমবারের মতো কোন সভায় অংশগ্রহণ করছি। এর আগে অনলাইনে সনাকের বহু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। সনাক যে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজগুলো করে তা খুবই মহৎ। তিনি বলেন, আজকের আলোচনা সভায় যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমি সবগুলো নোট করে রেখেছি। পর্যায়ক্রমে ফলোআপ করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মানের অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমরা খুবই সচেতন। সেদিক থেকে সেবা গ্রহীতাদেরও অনেক অনেক সচেতনতার প্রয়োজন আছে। তিনি হাসপাতালের অভ্যন্তরে যানবাহনের চলাচল রোধ করার জন্য সনাকের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সনাকের সহ-সভাপতি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে সনাকের বিশাল একটা কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। আজকের আলোচনা থেকে আমরা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হতে পেরেছি। সনাক কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়। সনাক মূলত টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত হয়েছে। সনাক মূলত হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে অবগত করে সমাধানের চেষ্টা করে। সনাক পেছনে থেকে সমস্যাগুলো সমাধানে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা যোগায়। তিনি বলেন, সেবা গ্রহীতাদের এতো চাপ সহ্য করেও হাসপাতাল সেবার মানোন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের আলোচনাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে যে ভিডিওটা দেখলাম আমার মনে হয় তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনা দরকার। হাসপাতালের সামনের রাস্তাটা আরো প্রশস্ত করা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এম্বুলেন্সগুলো রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড থাকা প্রয়োজন। হাসপাতালের স্ট্রাফদেরও নির্দিষ্ট পোশাক থাকা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তিনি মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

স্বাগত বক্তব্যে সনাক সদস্য ডাঃ মিজানুর রহমান খান বলেন, দুর্নীতি কিভাবে রোধ করা যায় এবং হাসপাতালের বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে কিভাবে সমাধান করা যায় সেটিই সনাক করছে। প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করাই সনাকের মূল লক্ষ্য। টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, সনাক সদস্য এবিএম নজরুল আমিন সাজু, সনাকের অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) গ্রুপের সহ-সমন্বয়ক আশিক বিন রহিম, ইয়েস সদস্য জয় ঘোষ, হাসপাতালের সেবিকা মাকসুদা আক্তার প্রমুখ। এছাড়াও হাসপাতালে সেবাদাতাগণের সময়ানুবর্তিতা, প্রত্যাশিত জনবল নিশ্চিতকরণ/ আধরষধনষব ফড়পঃড়ৎং ধমধরহংঃ ংধহপঃরড়হবফ ঢ়ড়ংঃ, হাসপাতালের সেবার উন্নয়নে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোকে কার্যকর করা, ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার-এর আধুনিকায়ন/মা বান্ধব করা, দৈনিক ঔষধ সরবরাহের তালিকার আধনিকায়ন ও হালনাগাদকরণ, ঈড়সঢ়ষধরহ ৎবফৎবংং পড়সসরঃঃবব (অভিযোগ নিস্পত্তি কমিটি) ধহফ ারংরনষব মঁরফবষরহব, হাসপাতালের ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত (উবংরমহধঃবফ ঙভভরপবৎ) কর্মকর্তা নিয়োগ ও ডিআইও বোর্ড স্থাপন, জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে তথ্য প্রদান ও এ সস্পর্কিত রেজিস্টার/ফাইল সংরক্ষণ, হাসপাতালের সিটিজেন চার্টার হালনাগাদকরণ, পরামর্শ ও অভিযোগ বক্স কার্যকরকরণ, তথ্যের উন্মুক্ত প্রকাশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, সেবিকাবৃন্দ, ইয়েস গ্রুপের দলনেতাসহ সদস্যবৃন্দ।

ফম/এমএমএ/

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | ফোকাস মোহনা.কম