হাজীগঞ্জে বাড়ির অংশীদারদের বঞ্চিত করে দীঘি দখল, চুক্তিনামায় জালিয়াতি

চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালচোঁ গ্রামের দরবেশ বাড়ীর নিজস্ব দীঘি সিন্ডিকেট করে বাড়ীর বহু অংশিদারদেরকে বঞ্চিত করে শরীফ নামে প্রবাসী ব্যাক্তির নিকট ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ইজারা চুক্তিনামা করতে গিয়ে অংশীদার বাদ দিয়ে নামকা ওয়াস্তে সম্পাদন করেছেন এবং সম্পাদন কাজেও কোন নিয়মনীতি মানা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ওই বাড়ীর রুহুল আমিনের ছেলে প্রবাসী শরীফের নামে বাড়ীর ইলিয়াছ দরবেশ গংরা ২০জন ৫ বছরের জন্য চুক্তিনামা সম্পাদন করেন। যাতে ৫ বছরের জন্য শরীফকে মাছ চাষের জন্য দীঘিটি দেয়া হয়। যার মেয়াদ দেয়া হয় ০১ মে ২০২২ থেকে শুরু করে ৩০ এপ্রিল ২০২৭ইং তারিখ পর্যন্ত। এতে উল্লেখ করা হয়, বাড়ীর উন্নয়ন কাজের জন্য শরীফের নিকট ৫০ হাজার টাকায় আবদ্ধ রাখা হয়।

এদিকে, বাড়ীর সকল অংশীদারদের সাথে পরামর্শ না করে সিন্ডিকেটের লোকজন চুক্তিনামা করায় বাকী লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রায় দেড় একর আয়তনের দীঘি মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শরীফ গংরা অবৈধভাবে দখলে নিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা হলেন-দরবেশ বাড়ীর অংশীদার-হানিফ দরবেশ, জামাল দরবেশ, শহীদ উল্যাহ, বাবুল, মজিব, নয়ন, ইলিয়াছ, লিটন, মনির, আব্দুস সালাম, তাফাজ্জল, বিল্লাল, শাহ আলম, মোবারক, মোশাররফ ও মিন্টু।

তারা বলেন, তাদের সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়াই সিন্ডিকেটের লোকজন চুক্তিনামায় তাদের নাম দিয়েছেন। তারা এই বিষয়ে জানেন না। আবার চুক্তিনামাও স্বাক্ষরগুলো এলোমেলো।

অভিযোগকারী নয়ন বলেন, বাড়ির যারা গরীব তাদের কাছ থেকে দীঘির পাড় বাঁধার কথা বলে টাকা নিয়েছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। চুক্তিনামায় অংশীদার হবেন মর্মে অনেকেই কিস্তিতে টাকা উঠিয়ে দিয়েছেন। এখন আমরা ঋণ গ্রস্ত এবং অংশীদার থেকেও বঞ্চিত।

এই বিষয়ে হানিফ দরবেশ বলেন, দীঘির মধ্যে তার অংশ তিনি মাটি কেটে পাড় বেধেছেন। চুক্তিনামার পর তারা আমার মাটি দিয়ে বাঁধা পাড়ের মাটি কেটে নিয়েছেন। বাড়ীর লোকজনের সাথে আলোচনা ছাড়াই তারা চুক্তিনামা করেছেন। এই চুক্তিনামা আমি মানিনা। এই বিষয় আমি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি।

শরীফ সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন বাকের, মুহিব উল্যাহ, কাউছার ও দেলোয়ার। এর মধ্যে বাকের মুঠোফোনে বলেন, আমরা দীঘিটি ৫ বছরের জন্য চুক্তিনামা করে নিয়েছি। এর আগে ৩ বছর দীঘিটি পরিত্যাক্ত ছিলো।
ফম/এমএমএ/

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম