হাজীগঞ্জে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

চাঁদপুর (হাজীগঞ্জ): হাজীগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনের ৭নং ওয়ার্ডের ফলাফল ঘোষণার পর টিউবওয়েল প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ও প্রতিদ্বন্দ্বী তালা প্রতীকের প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর উপজেলার পরিষদের সম্মুখে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩/৪ সমর্থকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

জানা গেছে, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ফলাফল ঘোষণা করার পর সদস্য পদে বিজয়ী টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা চত্ত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলা গেইটে (কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক) আসেন। তার সাথে ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ, পৌর যুবলীগের আহবায়ক হায়দার পারভেজ সুজনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিকে উপজেলা গেইটের অপর পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী তালা প্রতীকের প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিনের সমর্থকরা দাঁড়ানো ছিলেন। এসময় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা শ্লোগান দিতে থাকলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, পৌর যুবলীগের আহবায়ক হায়দার পারভেজ সুজন ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলম গাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এর মধ্যে কে বা কারা বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সমর্থকদের দিকে একটি ইটের টুকরো ছুড়ে মারলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৩/৪জন সমর্থক আহত হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দসহ হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, ফলাফল ঘোষণার পর সদস্য পদে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে ৩জন প্রার্থী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এর মধ্যে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তালা প্রতীকের প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন ৭৭ ভোট এবং হাতি প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুর রব মিয়া ১১ ভোট পেয়েছেন।
এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইভিএম এর মাধ্যমে একটানা ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ১৭৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করেন।

ফম/এমএমএ/

মহিউদ্দিন আল আজাদ | ফোকাস মোহনা.কম