স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না: নাছির উদ্দিন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শাহরাস্তিতে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

শাহরাস্তি (চাঁদপুর): বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগ।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় থ্রি স্টার কমিউনিটি সেন্টারে দুই দিনব্যপি এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

এছাড়াও কেক কাটা, দোয়া-মিলাদ ও উন্মুক্ত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার কর্মসূচী পালিত হয়।

শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ আউয়ালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান মিন্টুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাছের বাচ্চু পাটওয়ারী প্রমূখ।

উদ্বোধকের বক্তব্যে নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে এমন আয়োজনের জন্য আয়োজক ও ইতিহাস কথা কয় সংস্থার সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন মজুমদারকে ধন্যবাদ জানাই। এই ধরণের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবীত করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার অর্থাৎ অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা বাস্তবায়ন করছেন। যা পূর্বের সরকারগুলো করতে পারেনি। বিগত বছরগুলোতে সরকার নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করায় আজকে কোন মানুষ না খেয়ে থাকে না। সকলের পরনে জামা কাপড় আছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপকরণ পাচ্ছে। মানুষ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য থাকতে পারবে না। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কোনভাবেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না। তাহলে তারা আবার দেশকে পিছনে নিয়ে যাবে।

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

চিত্র প্রদর্শণী সম্পর্কে জানাগেছে, ‘দেশ, একটি সম্মিলিত উচ্চারণ’ নামক প্রগতিশীল সংগঠনের সার্বিক সহায়তায় প্রদর্শনীতে বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার শৈশব, কৈশোর কাল, বিবাহ বন্ধন এবং ছাত্রনেত্রী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ (১৯৪৭-১৯৭১),

কিছু কুলাঙ্গার সামরিক কর্মকর্তা কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা (১৯৭৫), স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা, ক্যান্টনমেন্টে পর পর ২১ বার সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তা কে গোপনে হত্যা, ফাঁসি, অপহরণ ও জীবন্ত সমাধি (১৯৭৫-১৯৮১), শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলগুলোকে পুনঃজাগরণ (১৯৮১-১৯৯৬),

সামরিক ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ (১৯৯৬-২০০১), বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সহিংসতার নজিরবিহীন পৈশাচিকতা (২০০১-২০০৫), ২১ আগস্টের গ্রেনেডবিদ্ধ বাংলাদেশ, স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনকল্পে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় পথ চলা (২০০৮-২০২২), একাত্তরের নরপিশাচ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি জামাতের সঙ্গে হেফাজতের আঁতাত ও সহিংসতা (২০১৩) তথাকথিত গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে পেট্রোলবোমা হামলার মাধ্যমে গণমানুষকে পোড়ানো (২০১৫), উন্নয়নের রোল মডেল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ (২০০৮-২০২২), দেশের জন্য বয়ে আনা আন্তর্জাতিক পুরষ্কার (২০০৮-২০২২), আজকের বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দর্শন শীর্ষক ৪ শত ৪৪টি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন মজুমদার।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সু-পরিচিত ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক প্রদর্শনীর ৫ শ’ ৬ তম আয়োজন এটি।

ফম/এমএমএ/ফয়েজ আহমেদ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম