দেশের সরকারি পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ডিজিটাল ভর্তি লটারি সোমবার। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ডিজিটাল লটারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে আবেদন ও ভর্তি হতে পারবে। এরপরদিন বেসরকারি স্কুলের ভর্তির লটারিও অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি পর্যায়ের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী আবেদনের স্তুপ জমা পড়েছে। আসন সংখ্যা ও আবেদনের ভিত্তিতে প্রতি ৬ জনের একজন শিক্ষার্থী এসব বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ের স্কুলে আসন সংখ্যার বিপরীতে এক তৃতীয়াংশ আবেদনও জমা পড়েনি।
দেশের নাম করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই সরকারি স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের ফল ও পড়াশুনার মান ভাল। বেসরকারি স্কুলের চেয়ে বেতন অনেক কম। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও অনেক বেশি প্রশিক্ষিত ও যোগ্য। মূলত তিন কারণে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী আবেদন বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, সরকারি স্কুলে শিক্ষকরা বিসিএস পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগও তাদের রয়েছে। ফলে তাদের পড়ানোর ধরণ বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এক হবে তা ধারণা করা যায়। এছাড়াও মহানগরী ও জেলা পর্যায়ে যেসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভাল ফল করে তার অধিকাংশই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে এসব স্কুলে পড়ার। সরকারি স্কুলে বেতন কম। বেসরকারি স্কুলের তুলনায় তা নূন্যতম বলা যায়। এছাড়াও খেলার মাঠ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকায় অভিভাবক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হওয়াটা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আসনের কোন সংকট নেই। সংকট শুধু নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। ৬ জনের এক জন ভর্তি হওয়ার পর অন্যান্য শিক্ষার্থীরা যে কোথাও ভর্তি হতে পারবে না তা কিন্তু নয়। বরং প্রতিবছর দেখা যায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, আসন আছে শিক্ষার্থী নেই।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, দেশের সরকারি পর্যায়ের মাধ্যমিক স্কুল আছে ৫৪০টি। এসব স্কুলে আসন সংখ্যা এক লাখ ৭ হাজার ৮৯০টি। এই আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে প্রায় ৬ লাখ। অন্যদিকে বিপরীত চিত্র বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রায় ২৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে ৯ লাখ ২৫ হাজার। আবেদন পড়েছে মাত্র আড়াই লাখ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে বেসরকারিতে নয় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আগ্রহ সরকারি স্কুলগুলোতে।
ফম/এমএমএ/


