সে কিংবা প্রত্যাশিত পার্লামেন্ট  (কবিতা)

—যুবক অনার্য
সুন্দর একটি সকাল এদেশে ভীষণ রাজনৈতিক। আর বিচ্ছিরি রকমের
 রাজনৈতিক বোলেই তো তার সঙ্গে আমার দেখা হলো না।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দিবসের প্রথম পরিচর্যায়
তার কথা মনে পড়ে। সে না এলে নাস্তা করার উপায় থাকবে না
দুপুরেও জুটবে না লাঞ্চ।আর ডিনার! ওহ্ কী যে করি,
সে আমার কাছে নেই দূরেও নেই।
চাকরিতে অ্যাপলিকেশনের জন্য ‘চাকরির বিজ্ঞাপন’ পত্রিকাটি
ম্যানেজ করা জরুরি।মানুষের কাছে চেয়ে-চিন্তে পত্রিকা দেখতে আর ভালো লাগে না।সে নেই তাই  বিজ্ঞাপনও আসে না,
অ্যাপলিকেশন হয়ে রইলো সুদূর পরাহত।
মলির সঙ্গে ডেটিং আজ সন্ধেবেলা। ভালোবাসার সহজ  প্রকাশ-
একটি গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা হাতে মুহূর্তে পোঁছে যাবো
মলির কাছে- হয়ে উঠলো না।তাকে ছাড়া কাগজের গোলাপও
সম্ভব নয়।সেদিন মনে হলো চট করে এক পাতা টিপ থেকে
একটি কালো টিপ কপালে পরিয়ে মলিকে চমকে দেই
টিপ কি আর এমনি এমনি হয়!সৌহার্দের বানিজ্যিক ব্যাকরণ
তারও রয়ে গেছে।নিজের প্রেমিকা বলে বলছি না-মলি মেয়েটা
প্রকৃতপ্রস্তাবে আশ্চর্য কিউট।তার সঙ্গে মলির কিউটনেসের
কোথাও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কিছু একটা সম্পর্ক রয়ে গেছে নাকি!
মহৎ শিল্পের মতন মলির স্পর্ধিত সুন্দরের সঙ্গে কোনো কিছুর
সামান্য সাহচর্য আমার অস্বীকার করতে ইচ্ছে হয়।
জম্পেশ আড্ডা আর চায়ের লিকারে মৃদু আলোড়ন
কখনো মধ্যবিত্ত একটি সিগ্রেটের ধোঁয়া ওড়াতে
আমি তার বিশদ শূন্যতা মর্মে মর্মে টের পেয়ে গেছি।
বিলাসী বিরহের মতন এক চিপ তরল ফরাসি নয়
কোনোরূপ টলমল টিকে থাকা- শুধু এইটুকু,
তবু তার সংহত পদধ্বনি না হলেই নয়-
আমার অসহায় মুহূর্তগুলি ঘুমের ভেতর নিদ্রাহীন হয়ে জেগে থাকে!

ফোকাস মোহনা.কম