সেই নদী গাঙঝিরি

—যুবক অনার্য
সে এক গাঙঝিরি নদী- নিকটে নির্জতা
 ঝড়ে – বিষন্নতা ওড়ে –
শুভ্র সোনালি বরণ।
এ নদী কবিতার মতো ক’রে
ছন্দপতনের চয়োনিকা গাথা গান
যাবতীয় মুদ্রার
চুপকথা বলে।
সে কথা বেদনার সে কথা রমণীর-
 বিবসনা মুখ!
নরকের অবিশ্বাসী অগ্নির মতো
আগুন লাগা প্রেম?
শূন্যতায় জড়ানো বাঁধন- রুখু চুল
 অভিমানী খেয়া শুকানো প্লাবন?-
এ কথার মানে হলো
কথার আড়ালে থাকা জলের শ্রাবন।
আমি সারাদিন  রাতভর
থেকেছি দাঁড়িয়ে
মুগ্ধতায় সাজানো রূপসীর কাছে
যে রূপসী হৃদয়ের রূপ থেকে
খুব দূরে থাকে
আঁকাবাঁকা চলে।
মিছিলে অদম্য চেতনায় ঘরহীন যারা মানুষের মুক্তি চেয়ে যারা কয়েদি চিরদিন
এ রূপসী তাহাদের কাছ থেকে,
থেকে গেছে দূর  বহুদূরে
যেখানে জীবনের উল্লাস
ঠুনকো নিরাপদ রাজা আর রাণীর প্রাসাদ
এ রূপসী  চেয়েছে কায়েমি জৌলুস
বিত্ত বৈভব মিথ্যে জন্মান্তর
প্রতিটি ছায়ার মধ্যে নিজেকেই
শাণিত রাখা যেনো ঝলসে ওঠে
রূপে তার কামুক কারো চোখ
হোক না তা দাসত্বের শর্ত মেনে নিয়ে
নগ্ন উদযাপন অন্য কোনো রাত!
কিংবা করুণার ত্রাস
একদিন ফুরাবে জৌলুস
ফুরাবে বিত্ত প্রতিভাস
জেগে উঠবে তুমুল দীর্ঘশ্বাস
শুকিয়ে যাবে প্লাবনভরাযৌবন
ফাল্গুনী অধিবাস।
তবু সেই নদী গাঙঝিরি
বইবে জোছনা রাতে দূরন্ত বাঘের মতো চৌকশ ঢঙে
দেখে নেবে- জীর্ণ  আত্মার
পড়ন্ত কারুকাজ
দেখে নেবে-  মিছিলের সুখ।
একদিন রুপসী কাঁদবে খুব -যে রূপসী ঠুনকো   ক্ষমতা  বস্তুত খুনের  অসুখ
এ নদী সাক্ষী র’বে ভেঙে পড়া সভ্যতার  রাজ্যপাট প্রাসাদের নষ্ট নষ্ট আর
নষ্টা রাণীদের – তীর ধরে
                           যেতে যেতে বয়ে!

ফোকাস মোহনা.কম