সূর্যমুখী চাষে ঝুকছেন কৃষকেরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দুই ফসলি জমিগুলোকে তিন ফসলে রুপান্তর করতে সরকারের প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার প্রদানসহ নানা সহযোগীতায় পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু হয়েছে সূর্যমুখী চাষ।

সুর্যমুখী মানে একটি ফুলের নাম। অনেকেই শখ করে বাসায় কিংবা ছাদে সৌন্দর্যের জন্য টবে লাগিয়ে থাকেন। সবুজের মাঝে যেন একখন্ড হলুদের গাছগুলো দোল খাচ্ছে, ছড়াচ্ছে সৌন্দর্য। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঠে হলুদ আর সবুজের মিশেলে বড়ই মহাবিয়াম সূর্যমুখীর এ দৃশ্য। স্বল্পমেয়াদী ফসল হওয়ায় দুই ফসলি জমিতে তিন ফসলিতে রুপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন অনেক কৃষকেরা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সাজু মিয়া নিজ বাড়ির পাশ্ববর্তী ৫ বিঘা আবাদী জমিতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এই প্রথম সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। জানুয়ারি মাসে এই সূর্যমুখী ফুলের চারা রোপণ করেন। জৈবসার আর রাসায়নিক সারের সংমিশ্রণ আর নিয়মিত পানির সেচ প্রদান করায় এখন সুর্যমুখি চাষের জমিতে আসলে মন ভরে যায় ।

একই গ্রামের কৃষক মো. স্বাধীন মিয়া জানান, ধান চাষ খুব একটা লাভজনক নয়। ধান চাষ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকার ধান পাওয়া যায় না। তাই অন্যন্যা ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তৈল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ মন থেকে ১০ মন বীজ উৎপাদন হয়। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা।

দর্শনার্থী হায়দার কাদের বলেন, রাস্তার পাশের জমিতে সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত দেখে অনেক ভাল লাগে। তাই সময় পেলেই আমি সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেতে ছবি তুলতে আসি। সূর্যমুখী ফুল দেখতে অনেক ভাল লাগে কারণ সুর্য যখন যে দিকে যায় তখন সেই দিকে ফুল হেলে যায় ।

নবাবগঞ্জ কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চাষিদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের চাষের আগ্রহ তৈরি করা হয়েছে। তাই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এর আগে কৃষকদের সূর্যমুখী ফুল চাষে তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। এবার কৃষি অফিসের উদ্বুদ্ধকরণে নবাবগঞ্জে কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন।

ফম/এমএমএ/

কৃষি ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম