সুশাসন নিশ্চিত করলে ভোট চাইতে হবে না : এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জনপ্রতিনিধিদের ভোটের জন্য ভোটারদের কাছে যেতে হবে না।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার (ইএএলজি) প্রকল্প’ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়োজিত ‘স্থানীয় সুশাসন বিষয়ে অংশীজনদের সম্মেলন: অগ্রগতি, শিখন ও করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।-বাসস।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের ভোটের জন্য নয় বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করলে ভোট নিয়ে ভাবতে হবে না। জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদার জায়গায় যেতে হবে। না পারলে জোর করে টাইটেল লাগিয়ে শুধু পদবীর মর্যাদাই পাবেন। সম্মান আদায় করতে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মতো আনন্দের কিছু নেই।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিজ নাথালী শুয়ার্ড এবং বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী।

তাজুল ইসলাম জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা থাকলে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে আপনাদের (জনপ্রতিনিধি) সাথে সম্পর্ক তৈরী হয়ে যাবে। তারা আপনাদের কার্যক্রমে সুবিধা পেলে একসময় ভোটে তাদের কাছে ক্যাম্পেইন করতে যেতে হবে না। মানুষকে দুঃশাসন ও অত্যাচার-অবিচার থেকে মুক্তি দিতে না পারলে আপনাকে বার-বার মানুষের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠাগুলোকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছ থেকে কর আদায়ের পাশাপাশি পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের নিকট প্রকাশ এবং উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করতে হবে। এতে করে জনসাধারণ অবশ্যই কর প্রদানে উৎসাহী হবেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে তাদের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করলে কর প্রদান না করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের আয় বাড়িয়ে উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখতে হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিবত করতে ইএএলজি প্রকল্প প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে যৌথভাবে কাজ করে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধির প্রথে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো একটি স্বাধীন বৈষম্যমুক্ত ও উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর (বঙ্গবন্ধু) কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপ-পরিচলক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং প্রকল্প কর্মকর্তা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।-বাসস।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম