
চাঁদপুর: যারা এ সময়কার ফুটবল প্রেমি কিংবা ভালো ফুটবলার হতে আগ্রহী তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিশ্ব নন্দিত ফুটবলার লিওনেল আন্দ্রেস মেসির ভক্ত এবং অনুসারী। এর ব্যতিক্রম নয় চাঁদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদে ফুটবলার সোহানের। অনন্য প্রতিভার অধিকারী মাত্র সাড়ে ৫ বছর বয়সী এই শিশু তার ভবিষ্যৎ জীবনে মেসি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ফুটবল খেলার কিছু কৌশল দেখিয়ে এই শিশু ইতোমধ্যে সকলে দৃষ্টি কেড়েছেন। তবে তার এই প্রতিভার ধারাবাহিকতার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী অভিভাবকের।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সরিজমেন এই শিশুর বাড়িতে গিয়ে দেখাগেছে তার ফুটবল খেলার নানা কৌশল। কথা হয় তার বাবা, প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাথে।
মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিনের সাড়ে পাঁচানি গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. সোহেল প্রধানিয়ার ছেলে মো. সোহান। দুই ভাই বোনের মধ্যে সোহান ছোট। তারা বাবা সোহেল প্রধানিয়া পেশায় একজন সাইকেল মেরামত কাজের মিস্ত্রি। প্রত্যান্ত অঞ্চলের ছোট বাড়িতে শিশু ফুটবলার সোহান পরিবারের সাথে থাকেন। স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশু শ্রেণিতে পড়েন সোহান। বোন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
সাড়ে পাঁচানি গ্রামের শিশুদের জন্য খেলার কোন মাঠ নেই। অধিকাংশ শিশুরা সড়কে কিংবা ফসলি জমিতে খেলা-ধুলার চর্চা করেন। শিশু সোহানও তার বাড়ির আঙ্গিনায় এবং তার বাবার সাইকেল গ্যারেজের সামনে রাস্তায় নিয়মিত ফুটবল খেলার চর্চা করেন।
সোহান বলেন, বাবাই আমাকে খেলা শেখায়। আমি বড় হয়ে মেসির মত খেলোয়াড় হতে চাই।
সোহানের খেলার সহপাঠীরা জানান, সোহান বয়সে ছোট হলেও তার খেলার ধরণ অনেক ভালো। তারা বাবাই প্রতিদিন ফজরের নামাজের পরে তাকে ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ দেন। এরপর দিনের অন্য সময় সোহান আমাদের সাথে খেলে।
শিশু সোহানের দাদী বলেন, এক বছর বয়স হওয়ার পর শিশু সোহানকে বল কিনে দেন দাদা শাহ আলম। সেই থেকেই তার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ। খেলার প্রতি তার যে আগ্রহ তা দেশে আমরা সবাই খুবই আনন্দিত। প্রতিদিনই অনেক লোকজন বাড়িতে তার খেলা দেখার জন্য আসে। আমার ছোট এই নাতি বড় খেলোয়াড় হবে এটাই আমাদের স্বপ্ন।
সোহানের বাবা মো. সোহেল প্রধানিয়া বলেন, সোহানের ফুটবল খেলার চর্চা ও প্রশিক্ষণ আমার হাতেই। আমাদের এলাকায় খেলার মাঠ নেই। আর আমি সাইকেল মেরামতের কাজ করি। সেখানেই সড়কের পাশে প্রতিদিন বাদ ফজর তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অবশ্যই তার প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ক্রিকেটার মো. শামছুজ্জামান ডলার বলেন, লোকমুখে সোহানের ফুটবল খেলার বিষয়ে জানতে পেরে তার বাড়িতে আসি। একজন ক্ষুদে ফুটবলারের ফুটবলের ওপর এমন দখল খুবই অসাধারণ। মূলত এটি আল্লাহ প্রদত্ত। বলের প্রতি তার অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ। কয়েকজনের সাথে তার খেলা দেখে আমি রীতিমত বিস্মিত হয়েছি। তাকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। কারণ তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এবং সাইকেল মেকানিক।
ফম/এমএমএ/


