চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিগত এক বছর নানা ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে আসছে। বিশেষ করে সভাপতি পদ নিয়ে প্রথমে বিতর্ক তৈরী করেছেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএওন) একি মিত্র চাকমা। তিনি এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই থেকে এই কলেজের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত।
খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে কলেজের বিগত দিনের এডহক কমিটি ও দুই বছরের জন্য মনোনয়ন দেয়া কমিটির বিষয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেজবাহ উদ্দিন নামে ব্যাক্তিকে দেয়া হয়েছে প্রথম এডহক কমিটির সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। তার বিষয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এরপর দেয়া হয়েছে ছাত্রদল নেতাকে। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন চলতি মাসের ২ আগস্ট পর্যন্ত। এর আগে গত ১ জুলাই কলেজ পরিচালনা করতে বিধি মোতাবেক দুই বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রেরণ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সভাপতি পদে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা সভাপতির নাম কমিটিতে না থাকায় শুরু হয় আবারও ষড়যন্ত্র।
তারই অংশ হিসেবে স্থানীয়রা গত ২৫ জুলাই সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে কলেজের অধ্যক্ষকে সাথে নিয়ে সভাপতির ছবিকে লাল ক্রস দিয়ে ব্যানার সাঁটিয়ে প্রতিবাদ সভা করে।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন এডহক কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মো. আকতার হোসেন ও কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভুক্ত একজন শিক্ষক কোনভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে অবস্থান নিতে পারে না। তবে স্থানীয় লোকজন কলেজের উন্নতির জন্য যে কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করা তাদের নাগরিক অধিকার।
কলেজের সদ্য বিদায়ী সভাপতি মো. আকতার হোসেন বলেন, আমরা এলাকার সন্তান। এই কলেজের বর্তমান পর্যায়ের আসার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অবদান আছে। আমি সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর কলেজের শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকের সাথে কথা বলেছি। যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুই বছরের জন্য যাকে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে, উনার নাম আমরা কলেজের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করিনি। এর আগের সভাপতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযোগ উঠার পর আমি নিজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাজে গিয়েছি। তখন তিনি আমাকে দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন, কারণ আমি একজন জুলাই যোদ্ধা এবং আমি দায়িত্ব পালন করেছি। গত ১ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধি অনুসরণ করে দুই বছরের জন্য যে কমিটি জমা দিয়েছি সেখানে সভাপতি পদ পরিবর্তন করে বাকি সবগুলো পদ ঠিক রাখা হয়েছে। ওইখানে সভাপতি পদে আমার নামও প্রস্তাব করা আছে।
আকতার বলেন, ভিসি বোরহান উদ্দিন নামে যাকে সভাপতি মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি আমাদের এলাকা থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরের বাসিন্দা। এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি তেমন কিছু অবগত নন। আর আমার জানামতে এই পদে আসার জন্য আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কারণ আমি ভিসির সাথে কথা বলে এই বিষয়ে উনাকে মনোনয়ন দেয়ার পিছনে কারা সব জানতে পেরেছি। উনি বলেছেন সুপারিশ নিয়ে আসলে উনাকে বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত ব্যাক্তিদের থেকে দেয়া হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে হিসেবে ভিসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভায় যাওয়া যায় কীনা এমন প্রশ্ন করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজকে। তিনি বলেন, আমি চাপে পড়ে গিয়েছি। কারণ আমি এলাকাবাসীকে বাদ দিয়ে চলতে পারি না।
তাকে প্রশ্ন করা হয় অভিযোগ আছে আপনি এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, এই আয়োজন আমার পক্ষ থেকে হতে পারে না। এলাকাবাসী আয়োজন করে আমাকে নিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় প্রতিবাদ সভায় ব্যানারে দেশের একজন সম্মানিত ব্যাক্তি বোরহান উদ্দিন এর ছবি লাল ক্রস দিয়ে সাঁটানো হয়েছে। সেই বিষয়টি আপনার দৃষ্টিতে আসেনি? তিনি বলেন, তারা ব্যানার করেছে সেটাও আমি জানিনা। হঠাৎ করে এই আয়োজন। এইভাবে ছবি দিয়ে সম্মান হানি করা ঠিক হয়নি।
অধ্যক্ষ বলেন, আমি এই কলেজের মঙ্গল হয় এবং বিধি মোতাবেক সকল কাজ ও সিদ্ধান্তের সাথে একমত।
এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ভিসি কর্তৃক মনোনীত সভাপতি আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন একজন সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান এবং জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত মুখ। তিনি মতলবের জন্য গর্ব। তিনি এই কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এটি অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ছিলো না। তারপরেও তিনি যেহেতু সম্মতি দিয়েছেন, অব্যশই কলেজের উন্নতির জন্য এটি একটি নেয়ামক হবে।
চলতি আগস্ট মাসের ২ তারিখে পূর্বের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের দুই বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন।
কলেজের সভাপতি পদ নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি অবগত। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অবশ্যই নিয়ম অনুসরণ করে কাজ করেন। আমি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করি। প্রতিবাদ সভা করে তারা যেসব অভিযোগ তুলেছেন এবং আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছে এই বিষয়ে সাংবাদিক হিসেবে আপনারা খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন। তবে একজন ব্যক্তির বিষয়ে অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট কথা বলা, ছবি দিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করার অধিকার কীভাবে রাখে। মিথ্যা প্রচারণার বিষয়টি আমি দেখবো। তবে খুব শিগগিরই আমি কলেজে যাব এবং আমার দায়িত্ব পালন করবো।
ফম/এমএমএ/


