সারাবছর কেউ খোঁজ নেয় না, তাই কথা বলতে নারাজ আতিক পরিবার

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচআনি গ্রামের আতিক উল্লা সরকার। সারাবছর কেউ খোঁজ খবর নেয় না আর ২১ আগস্ট আসলেই সাংবাদিকরা এসে বিভিন্ন খোঁজ খবর নেয়। এই ক্ষোভে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে আপত্তি জানান আতিকের স্ত্রী ও সন্তানরা।

শনিবার (২০ আগস্ট) নিহত আতিকের বাড়িতে গেলে অনুরোধের মাধ্যমে কথা হয় স্ত্রী লাইলি বেগম ও সন্তানদের সাথে। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) সাথে কথা বলে কি হবে। সারাবছর কেউ খোঁজ খবর নেয় না। ২১ আগস্ট আসলে শুধু সাংবাদিকরা এসে খোঁজ খবর নেয়। তারা আরও জানান, কেউ খবর নেয় না, তাতে কোন দুঃখ নেই, কিন্তু আতিকের কবরটা পাকাকরণের দাবী করেছিলাম আমরা। কিন্তু আজ ৩-৪ বছর ধরে অনেকেই কথা দেয় কিন্তু কাজ আর হয় না। কবরস্থানে যাওয়ার ৩০০ ফুট কাঁচা রাস্তা আছে সেটাও পাকাকরণের দাবী ছিল আমাদের। কিন্তু কেউ কথা দিয়ে কথা রাখেনি।

আতিকের মৃত্যুর পর অনেক দুঃখ দুর্দশা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় বর্তমানে সচল হয়েছে পরিবারটি। আতিক ছাড়া ১৮ টি বছর পার করলো তার স্ত্রী-সন্তান। তার মৃত্যুর পর অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছিল তারা। তবে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ৩৫ লাখ টাকার সহায়তায় আলোর মুখ দেখছে পরিবারটি। এখন তাদের একটাই দাবী আতিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার।

আতিকের রেখে যাওয়া এক মেয়ে ও তিন ছেলেকে নিয়েই স্ত্রী লাইলি বেগমের বর্তমান সংসার। মেয়ে তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর আগে। ছেলে মিথন সরকার ডিগ্রিতে তুলারাম কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি কোম্পানীতে কাজ করছে। তৃতীয় ছেলে মিন্টু একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও চতুর্থ ছেলে সাকিব বর্তমানে লেখাপড়া করছে না।

আতিক আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। একটি কলকারখানায় কাজ শেষে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তার ছেলে মিথন সরকারও এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জয় বলেন, আমরা সবসময়ই আতিকের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। সে একজন একটিভ কর্মী ছিল। যে কোন সময় দলীয় কাজে তাকে পাওয়া যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় পরিবারটি মোটামুটি সচল হয়েছে। তবে একটা দুঃখ তার কবর ও ৩০০ ফুট রাস্তা পাকাকরণের জন্য অনেক চেষ্টা করতেছি, কিন্তু পারছি না।

তবে আশ্বাস জানিয়ে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে বিএনপি-জামায়াত। ওই হামলায় আতিক নিহত হয়। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি আরও বলেন, আতিকের কবর পাকাকরণের ব্যাপারে আমার কাছে প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে দ্রুত কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই তার সহায়তায় পরিবারটি ভালো আছে।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম